হৃদ্যন্ত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এখন আর সব সময় হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পকেটে বহনযোগ্য ছোট আকারের মোবাইল ইসিজি ডিভাইস ব্যবহার করে বাড়িতে বসেই হৃৎপিণ্ডের ছন্দ বা রিদম রেকর্ড করা সম্ভব হচ্ছে। এই যন্ত্রটি মূলত হৃদ্যন্ত্রের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে এই ধরনের ডিভাইস আট থেকে দশ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
তবে বাজারে এর চেয়ে বেশি দামি ও উন্নত মানের মোবাইল ইসিজি মেশিনও রয়েছে। চিকিৎসকেরা সাধারণত হাসপাতালে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদ্যন্ত্রের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর হাত, পা ও বুকে ইলেকট্রোড লাগানো হয়। কিন্তু পোর্টেবল বা বহনযোগ্য এই ডিভাইসটি হাতের মুঠোয় এঁটে যায় এবং এটি ব্যবহারের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ।
ডিভাইসটি ব্যবহারের সময় এর সেন্সরের ওপর ৩০ সেকেন্ড আঙুল চেপে ধরে রাখতে হয়। এরপর হৃদ্যন্ত্রের ছন্দ বা রিদম সরাসরি ডিভাইসের স্ক্রিনে অথবা ব্লুটুথের মাধ্যমে সংযুক্ত স্মার্টফোনের অ্যাপে দেখা যায়। যদি রেকর্ডিংয়ে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে, তবে সেই তথ্য দ্রুত ইমেইল বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো সম্ভব।
বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনের মতো হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা শনাক্ত করতে এই ডিভাইসটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন হলো হৃৎপিণ্ডের ওপরের প্রকোষ্ঠের দ্রুত ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন। যাঁদের হৃৎস্পন্দন মাঝেমধ্যে খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হয়ে যায়, তাঁদের জন্য এই ডিভাইসটি বেশ সহায়ক। উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা হৃদ্যন্ত্রের ছন্দ পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, যা রোগীর দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকেরা অনেক সময় প্যারক্সিসমাল অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে আক্রান্ত রোগীদের এই ধরনের মোবাইল ইসিজি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এছাড়া সুপ্রাভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়ার (এসভিটি) মতো হৃদ্যন্ত্রের আরও কিছু সমস্যা শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও এই ডিভাইসটি কার্যকর হতে পারে। তবে এই ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসকের মাধ্যমে করা পূর্ণাঙ্গ ইসিজি পরীক্ষার বিকল্প নয়।
পোর্টেবল ইসিজি ডিভাইসটি মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। হৃদ্যন্ত্রের গুরুতর কোনো সমস্যা থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। প্রযুক্তির এই অগ্রগতির ফলে সাধারণ মানুষ এখন ঘরে বসেই নিজের স্বাস্থ্যের প্রাথমিক তথ্য জানতে পারছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী রোগ নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে।
তবে ডিভাইসের রিডিং বা ফলাফল নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে তা দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য এই ধরনের পোর্টেবল ডিভাইস এখন অনেক মানুষের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি ব্যবহারের সহজলভ্যতা এবং দ্রুত ফলাফল পাওয়ার সুবিধা থাকায় হৃদ্রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় এটি একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, ডিভাইসের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য কেবল প্রাথমিক ধারণা দেয়, যা চূড়ান্ত রোগ নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই যেকোনো অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
