স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ধীরগতি একটি সাধারণ সমস্যা। জরুরি কাজ করার সময় হঠাৎ ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, ওয়েবসাইট লোড হতে দেরি হওয়া, ভিডিও বাফার হওয়া কিংবা মেসেজ পাঠাতে সমস্যা হওয়া নিয়মিত অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় ফোনের নেটওয়ার্ক সিগন্যাল পূর্ণ দেখালেও ইন্টারনেটের গতি প্রত্যাশা অনুযায়ী পাওয়া যায় না।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ফোনের এরোপ্লেন মোড কয়েক সেকেন্ডের জন্য চালু করে আবার বন্ধ করে দেন। এই কৌশলটি ইন্টারনেটের গতি বাড়াতে কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কেবল নেটওয়ার্ক বারের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। একজন ব্যবহারকারী যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করেন, তখন স্মার্টফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ পরিবর্তন করে।
অনেক সময় ফোনটি আগের টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করে, যদিও কাছাকাছি অন্য কোনো টাওয়ারে তুলনামূলক শক্তিশালী সিগন্যাল বিদ্যমান থাকে। এর ফলে ফোনে নেটওয়ার্ক বার দেখা গেলেও ডাটা আদান-প্রদানের গতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে চলন্ত অবস্থায়, দুর্বল নেটওয়ার্ক কভারেজ এলাকায় কিংবা নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত ব্যবহারকারীর চাপ থাকলে এই ধরনের সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
এরোপ্লেন মোড চালু করলে ফোনের সেলুলার নেটওয়ার্ক সংযোগ সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে ফোনটি পূর্বের টাওয়ারের সঙ্গে থাকা সংযোগটি ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে যখন এরোপ্লেন মোড বন্ধ করা হয়, তখন ফোনটি নতুন করে কাছাকাছি থাকা নেটওয়ার্ক টাওয়ারগুলো অনুসন্ধান করে এবং সবচেয়ে শক্তিশালী সিগন্যাল প্রদানকারী টাওয়ারের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেটওয়ার্কের পুরনো বা দুর্বল সংযোগটি বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন সংযোগ তৈরি হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক করতে সহায়তা করে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, এরোপ্লেন মোড নিজে থেকে ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি বাড়িয়ে দেয় না। এটি মূলত নেটওয়ার্ক সংযোগটি নতুন করে স্থাপন করার একটি উপায় মাত্র।
যদি ইন্টারনেটের ধীরগতির মূল কারণ পুরনো বা দুর্বল নেটওয়ার্ক সংযোগ হয়ে থাকে, তবে এই কৌশলের মাধ্যমে গতির পার্থক্য স্পষ্ট বোঝা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি সমস্যাটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় টাওয়ারের ওপর অতিরিক্ত চাপ, সিগন্যালের দুর্বলতা, ডাটা প্যাকের মেয়াদ বা সীমা শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা মোবাইল অপারেটরের নিজস্ব নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের কারণে হয়, তবে এরোপ্লেন মোড অন-অফ করে কোনো সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
অনেকে এরোপ্লেন মোড চালু করার সাথে সাথেই তা বন্ধ করে দেন। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, অন্তত কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করার পর মোডটি বন্ধ করা উচিত। এতে ফোনের নেটওয়ার্ক মডিউলটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায় এবং পুনরায় সংযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।
তাই ইন্টারনেটের গতি হঠাৎ কমে গেলে ফোন রিস্টার্ট করার আগে এই পদ্ধতিটি একবার পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। এটি সবসময় ইন্টারনেটের গতি বাড়াবে এমন নিশ্চয়তা নেই, তবে নেটওয়ার্ক সংযোগে সাময়িক কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সমাধান করার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে।
