স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি সাধারণ অভ্যাস হলো রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে বসিয়ে রাখা এবং সকালে সেটি খোলা। অনেকেই মনে করেন, ১০০ শতাংশ চার্জ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় বিদ্যুতের সংযোগে ফোন থাকলে ব্যাটারির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বা ফোনটি ওভারচার্জ হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আধুনিক স্মার্টফোনের প্রযুক্তিগত দিক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানের স্মার্টফোনগুলোতে লিথিয়াম-আয়ন বা লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এই ফোনগুলোর চার্জিং সিস্টেমে এমন ব্যবস্থা থাকে যে, ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয় অথবা মূল চার্জিং প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ১০০ শতাংশ পূর্ণ হওয়ার পর ব্যাটারিতে লাগাতার বিদ্যুৎ প্রবেশ করতে পারে না।
তাই রাতভর চার্জে রাখলেই ফোন তাৎক্ষণিকভাবে ওভারচার্জ হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে—এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। তবে ১০০ শতাংশ চার্জে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটারিকে আটকে রাখা আদর্শ কোনো পরিস্থিতি নয়। লিথিয়াম-ভিত্তিক ব্যাটারির ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ ধরে রাখলে ব্যাটারির ভেতরে থাকা রাসায়নিক উপাদানের অবক্ষয়ের হার ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
এর ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটারির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা বা চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের পর ব্যবহারকারীরা লক্ষ্য করতে পারেন যে, ফোনটি আগের তুলনায় দ্রুত চার্জ শেষ করে ফেলছে। অর্থাৎ, রাতভর চার্জে রাখার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তাৎক্ষণিক কোনো বিস্ফোরণ বা বড় ধরনের ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি হওয়া।
ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাপমাত্রার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া, কিন্তু অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার নিচে রেখে চার্জ দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। এসব জায়গায় বাতাসের চলাচল কম থাকায় তাপ সহজে বের হতে পারে না, যা ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর।
তাই চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে সবসময় শক্ত, সমতল এবং খোলা জায়গায় রাখা নিরাপদ। আধুনিক স্মার্টফোনগুলোতে ব্যাটারির আয়ু দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য বিশেষ কিছু সুরক্ষা ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। ফোনভেদে এগুলো অপটিমাইজড চার্জিং, অ্যাডাপটিভ চার্জিং অথবা ব্যাটারি প্রোটেকশন নামে পরিচিত। এই ফিচারগুলো ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বিশ্লেষণ করে কাজ করে।
অনেক সময় এগুলো ফোনকে দীর্ঘক্ষণ ১০০ শতাংশ চার্জে আটকে না রেখে, ব্যবহারকারীর ঘুম থেকে ওঠার সময়ের কাছাকাছি গিয়ে চার্জ পূর্ণ করে। এতে ব্যাটারি দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ চার্জ অবস্থায় থাকার সময় কমে আসে এবং ব্যাটারির ওপর চাপ কম পড়ে। পরিশেষে বলা যায়, আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জিং নিয়ন্ত্রণের সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকায় রাতভর চার্জে রাখলে ফোন সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
তবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়িয়ে চলা এবং ফোনে থাকা ব্যাটারি প্রোটেকশন ফিচারগুলো চালু রাখা জরুরি। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন যেন কোনোভাবেই বালিশ বা কম্বলের নিচে চাপা না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে নিরাপত্তার পাশাপাশি ব্যাটারির কর্মক্ষমতাও দীর্ঘদিন বজায় রাখা সম্ভব।
