সরাসরি
বাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাববাংলাদেশ ব্যাংকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর হামলানারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটকরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগের রাতে মির্জা ফখরুলের বাসভবনে নেতাকর্মীদের ভিড়কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তবৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদখুলনায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণকে গুলি করে হত্যাগুলশানে ঢাকা ওয়াসার ১১৪ কাঠা জমি নিয়ে বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব
Tech মিনিট পড়া
|১০০%|

স্মার্টফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার মনোযোগ ও সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছে

স্মার্টফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার মনোযোগ ও সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছে
স্মার্টফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার মনোযোগ ও সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছে — বাংলা ধ্বনি

স্মার্টফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে লেখক লেখক এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই কারণ এটি যোগাযোগ, পড়াশোনা এবং তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রয়োজনের জায়গা থেকে কখন যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভ্যাসটি নির্ভরতায় রূপ নিয়েছে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোনের নোটিফিকেশন দেখা এবং রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত পর্দায় চোখ রাখা এখন অনেকেরই সাধারণ অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে মনোযোগের ওপর। উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষার্থী যখন পড়তে বসে, তখন ফোনে আসা একটি নোটিফিকেশন তাকে পড়াশোনার মূল লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দেয়। একটি নোটিফিকেশন থেকে শুরু হয়ে ভিডিও বা গেমের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং কয়েক মিনিটের বিরতি দীর্ঘসময়ের অপচয়ে পরিণত হয়।

ছোট ছোট ভিডিও এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্য দেখার অভ্যাস মানুষের ধৈর্য কমিয়ে দিচ্ছে, ফলে দীর্ঘ কোনো লেখা পড়া বা শিক্ষামূলক ভিডিও মনোযোগ দিয়ে শেষ করার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট। একই ঘরে থেকেও পরিবারের সদস্যরা একে অপরের সাথে কথা বলার পরিবর্তে ফোনের পর্দায় ব্যস্ত থাকেন। বাস্তব জীবনের আন্তরিক কথোপকথন কমে যাওয়ার ফলে ভার্চুয়াল জগতে যোগাযোগ বাড়লেও বাস্তব জীবনের একাকিত্ব আরও গভীর হয়ে ওঠে। মানুষ এখন অন্যের অনলাইন জীবন সম্পর্কে বেশি জানেন, তবে পাশের মানুষটির খবর রাখা কমিয়ে দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরেকটি নেতিবাচক প্রভাব হলো অন্যের জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো দেখে নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করা। মানুষ সাধারণত তাদের জীবনের আনন্দের ছবি এবং সফলতার গল্পগুলোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে। ফলে অন্যের দেখানো জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনকে তুলনা করে অনেকের মধ্যে অপূর্ণতা, হতাশা এবং হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যাটি প্রকট। অনেক পরিবারে শিশুকে শান্ত রাখা বা ব্যস্ত রাখার জন্য তার হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া হয়। যা একসময় শিশুর বিনোদনের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত এমন অভ্যাস চলতে থাকলে শিশুর আচরণ এবং মনোযোগের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে, যা পরবর্তীতে মোবাইল সরিয়ে নেওয়া পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।

তবে প্রযুক্তির সমস্যাটি প্রযুক্তির মধ্যে নয়, বরং এর ব্যবহারের ধরন এবং পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। অনলাইন শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং কাজের নতুন সুযোগ তৈরিতে মোবাইলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে ডিজিটাল ডিভাইসের সাথে পরিচিত থাকা প্রয়োজন, তবে এর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

পরিবর্তনের জন্য পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে বেশি শেখে। বাবা-মা নিজেরাই যদি দিনের বড় একটি সময় ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তবে সন্তানের কাছে মোবাইল কম ব্যবহারের পরামর্শ কার্যকর হবে না। নির্দিষ্ট সময় ফোন ব্যবহার করা, পড়ার সময় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং খাবারের সময় ফোন ব্যবহার না করে পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের সময় এবং মনোযোগের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার আগে নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন যাতে মোবাইল ফোন আমাদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে কি না, নাকি আমরা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়েছি তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

বিজ্ঞাপন / ADVERTISEMENT
তাসনিম আরা তথ্যাদি সম্পাদকীয় যাচাইকৃত

বাংলা ধ্বনি নিউজরুমের নিবন্ধিত সাংবাদিক। তথ্য অনুসন্ধান, সামাজিক সচেতনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ।

বাংলা ধ্বনি নিউজরুম বিশেষ বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি বাংলা ধ্বনি নিজস্ব সম্পাদকীয় পরিষদ কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ যাচাইকরণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটির ধারাবাহিক আপডেট পেতে সাথে থাকুন।

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম
পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
পরিবেশনায়: তাসনিম আরা© 2026 Bangla Dhwani (বাংলা ধ্বনি)
সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ খবর

আরও পড়ুন

/ ১৫