বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির লক্ষ্যে গুগলের কাছে কারিগরি সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গুগলের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। গুগলের গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড পাবলিক পলিসির আঞ্চলিক প্রধান কাইলি গার্ডনারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন দিক এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গুগল ফর এডুকেশনের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিশেষ প্রকল্পের প্রধান টিম পাওলিনি এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুর রহমান খান। সাক্ষাতকালে গুগলের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন।
তারা সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত হন এবং ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিনিধিদলটি ‘গুগল ফর এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ, জেমিন-আই একাডেমি এবং ক্রোম বুকস ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এই প্রযুক্তিগুলো শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য শিক্ষকদের দক্ষ করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সরকার ইতিমধ্যে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগকে আরও বেগবান করতে এবং শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুগল সহায়তা করতে পারে। এছাড়া শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক আধুনিকায়ন ও কনটেন্ট ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে গুগলের কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে। গুগলের প্রতিনিধিদল সরকারের এই লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি সহায়তা প্রদানের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। তারা জানান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করা যায়, সে বিষয়ে তারা কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা মনে করেন, গুগলের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এবং স্মার্ট শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। গুগলের প্রতিনিধিদল তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করেন।
সব মিলিয়ে, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
