ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শালিনী পাণ্ডে সম্প্রতি প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শালিনী পাণ্ডে বিষয়টি নিয়ে তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে দাবি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিনেত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তার পরিচিতি ও ছবি ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তির এমন অপব্যবহারের বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শালিনী পাণ্ডে বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি বিষয়।
তিনি জানান, প্রযুক্তির এমন নেতিবাচক ব্যবহার দেখে তিনি গভীরভাবে বিচলিত এবং এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ব্যক্তিজীবনের গোপনীয়তা ও মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে। অভিনেত্রী তার ভক্ত এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, এই ভুয়া ভিডিওটি যেন কেউ শেয়ার, ফরোয়ার্ড বা ডাউনলোড না করেন। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি কারো চোখে পড়লে তা যেন দ্রুত রিপোর্ট করা হয়, যাতে কর্তৃপক্ষ এটি সরিয়ে নিতে পারে। শালিনী পাণ্ডে ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তেলেগু সিনেমা ‘অর্জুন রেড্ডি’র মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান।
এরপর তিনি ‘মহানটি’, ‘জয়েশভাই জোরদার’ এবং ‘মহারাজ’-এর মতো বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার অভিনয় দক্ষতা তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটি বিশেষ অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে। তবে বর্তমানে এআই এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, শালিনী পাণ্ডে সেই তালিকায় যুক্ত হওয়া সর্বশেষ তারকা।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন এবং তারা প্রত্যেকেই এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কারো অনুমতি ছাড়া ভিডিও তৈরি করা আইনত ও নৈতিকভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কঠোর আইন ও সচেতনতা প্রয়োজন।
শালিনী পাণ্ডের এই বিবৃতিটি তার ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং এর অপব্যবহারের পরিণতির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন অনেকেই। অভিনেত্রী তার বিবৃতিতে পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, প্রযুক্তির উন্নয়ন মানবজাতির কল্যাণে হওয়া উচিত, কারো সম্মানহানির জন্য নয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ভুয়া কনটেন্ট তৈরির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শালিনী পাণ্ডের এই সাহসী অবস্থানকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন।
