বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য স্প্যাম বা ভুয়া কল একটি বড় ধরনের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদিন বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কলগুলো যেমন বিরক্তির উদ্রেক করে, তেমনি অসতর্কতার কারণে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কল থেকে সুরক্ষা পেতে স্মার্টফোনের নিজস্ব কিছু সেটিংস এবং ফিচার ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকর।
স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের সচেতনতা এবং সঠিক সেটিংসের প্রয়োগই এই সমস্যা সমাধানের প্রধান উপায়। প্রথমত, অপরিচিত নম্বর থেকে আসা প্রতিটি কল রিসিভ করার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে যদি নম্বরটি সন্দেহজনক মনে হয়, তবে কলটি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি ভুলবশত কোনো অপরিচিত কল রিসিভ করা হয়, তবে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির কোনো নির্দেশ অনুসরণ করা বা কোনো নম্বর চাপার মতো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
কল শেষ হওয়ার পর সেই নম্বরে ফিরতি ফোন করাও নিরাপদ নয়। অধিকাংশ আধুনিক স্মার্টফোনে কলার আইডি এবং স্প্যাম প্রোটেকশন নামে বিশেষ ফিচার থাকে। ফোনের কল সেটিংসে গিয়ে এই সুবিধাগুলো সক্রিয় করে রাখলে সন্দেহজনক বা সম্ভাব্য স্প্যাম নম্বর সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। ফোনভেদে এই সেটিংসের নাম বা অবস্থান ভিন্ন হতে পারে, তাই ব্যবহারকারীকে তার ফোনের সেটিংস মেনু ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে।
একই নম্বর থেকে বারবার বিরক্তিকর কল এলে সেটি ব্লক করার পাশাপাশি ‘রিপোর্ট স্প্যাম’ অপশনটি ব্যবহার করা উচিত। এতে ভবিষ্যতে ওই নির্দিষ্ট নম্বর থেকে কল আসা বন্ধ করা সহজ হয়। যদি ফোনের নিজস্ব সেটিংসে এই সুবিধা না থাকে, তবে টেলিকম অপারেটরদের স্প্যাম রিপোর্টিং ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
ফোনের নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা যথেষ্ট না মনে হলে অনেক ব্যবহারকারী কল শনাক্তকারী বা স্প্যাম শনাক্তকারী অ্যাপ ব্যবহার করেন। এই ধরনের অ্যাপ পরিচিত স্প্যাম নম্বরগুলো আগে থেকেই শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তবে যেকোনো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ইনস্টল করার আগে সেটি কোন ধরনের পারমিশন বা অনুমতি চাইছে এবং ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করবে, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফোন নম্বর যেখানে-সেখানে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট, অ্যাপ, অনলাইন ফর্ম বা প্রতিযোগিতায় অপ্রয়োজনে নিজের ফোন নম্বর দেওয়া উচিত নয়। কোনো পরিষেবা গ্রহণের সময় নম্বরটি আসলেই প্রয়োজন কি না, তা যাচাই করে নেওয়া ভালো। কারণ বিভিন্ন জায়গায় নম্বর ছড়িয়ে পড়লে প্রচারমূলক বা সন্দেহজনক কলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
ওটিপি বা গোপন তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেউ ফোন করে ওটিপি, এটিএম পিন, কার্ডের তথ্য, পাসওয়ার্ড কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কোনো গোপন তথ্য জানতে চাইলে তা কোনোভাবেই প্রদান করা যাবে না। পরিচয় যাচাইয়ের নামে কেউ এমন তথ্য চাইলে কলটি কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের অফিসিয়াল নম্বরে নিজে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করা উচিত।
গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় বা রাতে অপ্রয়োজনীয় কল এড়াতে ফোনের ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোড ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সেটিংস থেকে শুধু পরিচিত বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কলের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা যায়। এছাড়া বিদেশি নম্বর থেকে ফোন আসার প্রয়োজন না থাকলে ফোনের সংশ্লিষ্ট ব্লকিং সুবিধাও ব্যবহার করা সম্ভব।
পরিশেষে এটি মনে রাখা জরুরি যে, কোনো সেটিংসই সব ধরনের স্প্যাম কল শতভাগ বন্ধ করার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই ফোনের নিরাপত্তা ফিচারগুলো নিয়মিত আপডেট ও চালু রাখার পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কল পেলে দ্রুত নম্বরটি ব্লক ও রিপোর্ট করার অভ্যাস গড়ে তুললে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
