নওগাঁ শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংযুক্ত ক্যামেরার মাধ্যমে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এই ব্যবস্থার পাশাপাশি ‘এআই কানেক্টেড ডিজিটাল সার্ভিলেন্স অ্যান্ড সাইবার ল্যাব’ উদ্বোধন করা হয়।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু এই ল্যাবটির উদ্বোধন করেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সূধী সমাবেশে এই কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এছাড়া রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টে স্থাপন করা এই ক্যামেরাগুলো একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই ক্যামেরাগুলোতে এআইভিত্তিক ফেস ডিটেকশন ও রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্দেহজনক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তার পাশাপাশি তাদের তথ্য একটি ‘ওয়ার্নিং লিস্টে’ সংরক্ষণ করা যাবে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করে তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। এছাড়া চুরি যাওয়া বা সন্দেহভাজন যানবাহন শনাক্ত এবং তা অনুসরণ করার সুবিধা থাকবে। এই ব্যবস্থাটি রিয়েল-টাইম ডেটাবেজের সঙ্গে তথ্যের সমন্বয় করতে সক্ষম হবে, যা অপরাধী শনাক্তকরণে সহায়তা করবে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৬৪টি পয়েন্টে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, পর্যায়ক্রমে শহরের আরও বিভিন্ন এলাকায় এই নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন, রাজশাহী বিভাগের প্রথম জেলা শহর হিসেবে নওগাঁতে এই এআই ক্যামেরার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, পুলিশ প্রযুক্তির উন্নয়নকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে অপরাধ দমনে কাজ করতে চায়।
সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, পুরো শহর এখন ক্যামেরার আওতায় থাকবে। তিনি জানান, অপরাধ দমনের পাশাপাশি শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও এই ক্যামেরাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশের ভাবমূর্তি ফেরাতে কাজ করছেন।
এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজ করবে। বিশেষ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে পুলিশ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারবে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রমাণ সংগ্রহ করা যায়। এই সাইবার ল্যাবটি পুলিশকে ডিজিটাল ফরেনসিক এবং সাইবার অপরাধ দমনে আরও সক্ষম করে তুলবে। এর মাধ্যমে পুলিশ এখন আরও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধের তদন্ত এবং নজরদারি পরিচালনা করতে পারবে।
