চুল পড়া রোধে নতুন ওষুধ তৈরির প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে নতুন কোনো চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবন না হওয়ায় বর্তমানে নতুন ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর দিকে নজর দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। চুল পড়ার সমস্যার সমাধানে বিদ্যমান সীমিত চিকিৎসার বিকল্প তৈরি করাই এসব কোম্পানির মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চুল পড়ার ওষুধের বাজার বড় হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি নতুন ওষুধ নিয়ে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি ভেরাডার্মিকস তাদের পরীক্ষাধীন ওষুধ VDPHL01 নিয়ে কাজ করছে। এটি মূলত মুখে খাওয়ার মিনোক্সিডিলের একটি নতুন সংস্করণ।
কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, এই ওষুধটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন পায়, তবে এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য প্যাটার্ন হেয়ার লস বা বংশগত চুল পড়ার সমস্যায় প্রথম নন-হরমোনাল মুখে খাওয়ার ওষুধ হিসেবে গণ্য হবে। ভেরাডার্মিকসের শেয়ারের দাম চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাজারে আসার পর থেকে প্রায় ৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক কোম্পানি অ্যাবসি এবং সুইজারল্যান্ডের ওষুধ কোম্পানি কসমো ফার্মাসিউটিক্যালসও চুল পড়ার নতুন চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছে। অ্যাবসির শেয়ারের দাম এ বছর দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। বংশগত কারণে চুল পড়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় প্যাটার্ন হেয়ার লস বলা হয়। এতে জিনগতভাবে সংবেদনশীল চুলের গোড়া ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়, যার ফলে চুল পাতলা হতে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রে আনুমানিক পাঁচ কোটি পুরুষ ও তিন কোটি নারী এই সমস্যায় ভুগছেন। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিক থেকে চুল পড়ার চিকিৎসায় নতুন কোনো ওষুধ এফডিএ কর্তৃক অনুমোদিত হয়নি। বর্তমানে রোগীরা মূলত বিদ্যমান ওষুধ, বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি এবং হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের ওপর নির্ভর করেন। মিনোক্সিডিল মূলত উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা লক্ষ্য করেন যে, এই ওষুধ সেবনকারীদের শরীরে অস্বাভাবিকভাবে চুল গজাচ্ছে। এরপর থেকেই এটি চুল পড়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে VDPHL01-এর বিশেষত্ব হলো এর কার্যকারিতা। ৮ দশমিক ৫ মিলিগ্রামের এই ট্যাবলেটটি শরীরে ধীরে ধীরে মিনোক্সিডিল ছাড়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা শরীরে ওষুধের মাত্রা স্থির রাখতে সাহায্য করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মিনোক্সিডিল রক্তনালিতে প্রভাব ফেলে রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, বুক ধড়ফড় করা এবং শরীরে পানি জমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভেরাডার্মিকস এপ্রিল ২০২৬-এ পুরুষদের ওপর চালানো দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের পরীক্ষার ইতিবাচক ফল প্রকাশ করেছে।
৫১৯ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর চালানো এই পরীক্ষায় দেখা গেছে, ছয় মাস ব্যবহারের পর দিনে একবার ওষুধ গ্রহণকারী পুরুষদের প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে গড়ে প্রায় ৩০টি নতুন চুল গজিয়েছে। নারীদের ওপরও ওষুধটির পরীক্ষা চলমান রয়েছে। এছাড়া কসমো ফার্মাসিউটিক্যালস ক্লাসকোটেরোন নামক একটি ওষুধ নিয়ে কাজ করছে, যা চুলের গোড়ায় হরমোনের কার্যক্রম আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে অ্যাবসি ABS-201 নামক একটি ইনজেকশন তৈরির কাজ করছে। যদিও এসব ফলাফল আশাব্যঞ্জক, তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বড় পরিসরে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
