বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জন টার্নাস। দীর্ঘ ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর টিম কুক এই পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। তবে টিম কুক অ্যাপল থেকে পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না।
তিনি এখন থেকে কোম্পানির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সহায়তা প্রদান করবেন। জন টার্নাস অ্যাপলের নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের ধারায় একটি বড় পরিবর্তন সূচিত হলো। জন টার্নাস অ্যাপলের বাইরের কোনো ব্যক্তি নন, বরং তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
সিইও হওয়ার আগে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আইফোন, ম্যাক এবং অ্যাপল ওয়াচের মতো জনপ্রিয় ডিভাইসের হার্ডওয়্যার উন্নয়ন ও নকশা তৈরির ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী টার্নাস অ্যাপলে যোগ দেওয়ার আগে ভার্চুয়াল গবেষণা ব্যবস্থায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন।
অ্যাপলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পণ্যকে আরও টেকসই, নির্ভরযোগ্য এবং আধুনিক ডিজাইনের করার ক্ষেত্রে টার্নাসের বিশেষ অবদান রয়েছে। হার্ডওয়্যার বিভাগের নেতৃত্বে থাকার কারণে কোম্পানির পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ডিভাইসের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি সম্পর্কে তার গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে সিইও হিসেবে যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে স্টিভ জবসের উত্তরসূরি হিসেবে টিম কুক অ্যাপলের সিইও হয়েছিলেন। তার ১৫ বছরের নেতৃত্বে অ্যাপল অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে। কুকের দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোম্পানির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে প্রায় ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে কোম্পানির বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ ১০৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪১৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
কুকের নেতৃত্বে অ্যাপল কেবল হার্ডওয়্যার বিক্রির ওপর নির্ভরশীল না থেকে অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল টিভি প্লাস এবং আইক্লাউডের মতো সেবা খাতের মাধ্যমে আয়ের পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করেছে। জন টার্নাস এমন এক সময়ে অ্যাপলের হাল ধরলেন যখন বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জয়জয়কার চলছে। গুগল, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অ্যাপল এআই প্রযুক্তির দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন।
তাই নতুন সিইওর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অ্যাপলের এআই কৌশলকে আরও শক্তিশালী করা। সিরি বা ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্টকে আরও উন্নত করা, আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইসে এআই প্রযুক্তির গভীর সমন্বয় ঘটানো এবং ভবিষ্যতের নতুন পণ্য উদ্ভাবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিশ্চিত করা টার্নাসের নেতৃত্বের প্রধান পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে।
অ্যাপলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিম কুক নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোম্পানিকে পরামর্শ দেবেন। এটি কোনো আকস্মিক বিচ্ছেদ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেতৃত্বের এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। একজন হার্ডওয়্যার বিশেষজ্ঞ হিসেবে জন টার্নাস কীভাবে অ্যাপলকে এআই-নির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান, এখন সেদিকেই নজর থাকবে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমী ও বিনিয়োগকারীদের।
