অফিসে দীর্ঘসময় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে বসে কাজ করার সময় চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে চোখে ক্লান্তি, জ্বালা, পানি পড়া, মাথাব্যথা কিংবা ঝাপসা দেখার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকে মনে করেন এসব সমস্যার জন্য কেবল কম্পিউটারের স্ক্রিন দায়ী, কিন্তু কাজের জায়গায় আলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলেও চোখের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
তাই কম্পিউটারে কাজ করার সময় স্ক্রিনের পাশাপাশি ঘরের আলোর ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, খুব অন্ধকার ঘরে কাজ করা উচিত নয়। অন্ধকার ঘরে কম্পিউটারের উজ্জ্বল স্ক্রিন চোখের ওপর বেশি তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। ঘর একেবারে অন্ধকার রেখে শুধু মনিটরের আলোয় কাজ করলে চোখে অস্বস্তি বাড়ে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ঘরে অত্যন্ত উজ্জ্বল আলো রাখতে হবে। কাজের পরিবেশ এমন হওয়া উচিত যেখানে ঘরের আলো এবং স্ক্রিনের উজ্জ্বলতার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য থাকে না। দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে জানালা এমনভাবে থাকা উচিত যাতে সরাসরি সূর্যের আলো স্ক্রিনে না পড়ে।
সামনে বা পেছন থেকে তীব্র আলো এলে স্ক্রিনে প্রতিফলন তৈরি হয়, যা লেখা পড়তে চোখের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। জানালা পাশে থাকলে পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করে আলোর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। ডেস্কে আলাদা আলো বা ল্যাম্প ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ল্যাম্প এমনভাবে রাখতে হবে যাতে সরাসরি স্ক্রিনে আলো না পড়ে এবং চোখে ঝলক না লাগে।
ডানহাতি ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডেস্ক ল্যাম্প বাম দিকে রাখা সুবিধাজনক হতে পারে, যাতে হাতে ছায়া পড়ার সমস্যা কমে। বাঁহাতিদের ক্ষেত্রে এটি উল্টো দিকে রাখা যেতে পারে। ল্যাম্পের আলো যেন খুব তীব্র বা সরাসরি চোখের দিকে না আসে, সেজন্য শেডযুক্ত বা ছড়িয়ে আলো দেয় এমন ল্যাম্প ব্যবহার করা ভালো।
কম্পিউটার মনিটরের ওপর জানালা, টিউবলাইট বা অন্য কোনো আলোর প্রতিফলন পড়লে স্ক্রিন দেখতে সমস্যা হয়। তখন অনেকে অজান্তেই চোখ কুঁচকে বা সামনে ঝুঁকে কাজ করেন, যা ঘাড় ও কাঁধে ব্যথার কারণ হতে পারে। তাই ডেস্ক ও মনিটরের অবস্থান এমনভাবে ঠিক করা উচিত যাতে সরাসরি আলো স্ক্রিনে প্রতিফলিত না হয়।
প্রয়োজনে মনিটরের অবস্থান সামান্য ঘুরিয়ে নেওয়া যেতে পারে। ঘরের আলোর পাশাপাশি স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা বা ব্রাইটনেস ঠিক রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মনিটরের উজ্জ্বলতা নির্ধারণ করতে হবে। অনেক ডিভাইসে অটো ব্রাইটনেস বা নাইট লাইটের মতো সুবিধা থাকে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়।
রাতে কাজ করার সময় ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার না রেখে হালকা ও ছড়িয়ে থাকা আলো জ্বালিয়ে রাখা উচিত। এমন আলো বেছে নিতে হবে যা সরাসরি চোখে বা স্ক্রিনে পড়ে না। সঠিক আলো চোখের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করলেও দীর্ঘসময় একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
কাজের ফাঁকে মাঝে মাঝে স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে হবে এবং নিয়মিত বিরতি নিতে হবে। চোখে বারবার ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা অন্য কোনো সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সব মিলিয়ে কম্পিউটারে কাজের জন্য আদর্শ পরিবেশ মানে কেবল বেশি আলো নয়, বরং পর্যাপ্ত, ছড়িয়ে থাকা এবং স্ক্রিনে প্রতিফলন তৈরি না করে এমন আলোর ব্যবস্থা করা।
ডেস্ক, জানালা ও মনিটরের সঠিক অবস্থান এবং স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করলে দীর্ঘসময় কাজের পরিবেশ আরামদায়ক রাখা সম্ভব।
