বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২০২৮ সালে নারী দলের প্রথম টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, ছেলেদের টেস্ট ক্রিকেটে অর্জিত সাফল্য নারী দলের টেস্ট আয়োজনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করা হয়েছে বলে ওই সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল সম্প্রতি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নারী ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি নারী ক্রিকেটারদের ধীরে ধীরে টেস্ট খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে হতাশা রয়েছে, কারণ গত পাঁচ বছর ধরে তারা একই ধরনের প্রতিশ্রুতি শুনে আসছেন কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
২০২১ সালের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি সব পূর্ণ সদস্যদেশকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ নারী দল টেস্ট খেলার মর্যাদা পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তুতি বা ম্যাচ আয়োজন করা হয়নি। নারী দলের সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ বলেন, টেস্ট ক্রিকেট প্রতিটি ক্রিকেটারের স্বপ্ন এবং এর সৌন্দর্য অনন্য।
তবে মর্যাদা পাওয়ার দীর্ঘ সময় পরও এই বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় তিনি কষ্ট প্রকাশ করেছেন।
দেশীয় পর্যায়ে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের অভাব নারী দলের প্রস্তুতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মাত্র দুটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৩ সালে উইমেন্স বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি দল দুই দিনের ম্যাচ খেলেছিল।
তিন দিনের ম্যাচ হলে তবেই তা প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পায়। পরবর্তীতে গত বছরের শুরুতে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে নারী বিসিএল আয়োজন করা হয়, যেখানে ম্যাচগুলো তিন দিনের ছিল। তবে সেই টুর্নামেন্টের পর দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে প্রায় দুই বছরের বিরতি পড়েছে।
নারী দলের প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেট বাকি দুটি সংস্করণের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে সেশন অনুযায়ী ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হয় এবং এই হিসাব বুঝতে হলে নিয়মিত প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ঘাটতি থাকায় নারী ক্রিকেটারদের প্রস্তুতির বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
সাবেক অধিনায়ক রুমানা আহমেদ ফিটনেসের ঘাটতিকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে তার মতে, এই ঘাটতি দূর করার একমাত্র উপায় হলো বেশি বেশি টুর্নামেন্ট খেলা। দীর্ঘ সময় ধরে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট না খেললে ফিটনেস উন্নত করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিসিবি বর্তমানে ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নারী উইংয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা যত বেশি সম্ভব ম্যাচ আয়োজন করতে চান। আগামী বছরের এপ্রিলে নারী বিসিএলের তিন দিনের সংস্করণ আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং পরবর্তী আসরে ম্যাচের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাওয়া না গেলে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিকেটারের সংকট থাকায় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে বিসিবি সূত্রে জানা গেছে।
