শেফিল্ড ইউনাইটেডে স্থায়ীভাবে যোগ দেওয়ার মাত্র এক দিন পরই মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। গত রাতে ব্র্যামল লেনে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নশিপের এই ম্যাচে তিনি দলের প্রথম একাদশে জায়গা পান। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ম্যাচে শেফিল্ড ইউনাইটেড ৩-২ গোলে জয়লাভ করে। এই ম্যাচটি বাংলাদেশি দর্শকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল, কারণ বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের হয়ে মাঠে ছিলেন শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জাভিয়ের সিমন্স।
মাঠের লড়াইয়ে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় মুখোমুখি হওয়ায় ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে হামজা চৌধুরীর জন্য ম্যাচের শুরুটা সুখকর ছিল না। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই বোল্টন উইঙ্গার থিয়েরি গ্যালের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন তিনি। গ্যালের ক্রস আটকাতে ব্যর্থ হন হামজা, যার ফলে তৈরি হওয়া সুযোগ থেকে জাভিয়ের সিমন্স গোল করে বোল্টনকে এগিয়ে দেন।
যদিও সরাসরি হামজার ভুলে গোল হয়েছে বলা কঠিন, তবে বিশ্লেষকদের মতে, ক্রসটি ঠেকাতে পারলে গোল খাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতো না। রাইট ব্যাক পজিশনে খেলা হামজা চৌধুরী পুরো ম্যাচে খুব একটা সাবলীল ছিলেন না। বিরতির আগে তিনি গোলের একটি বড় সুযোগও হাতছাড়া করেন। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যম এই ম্যাচে হামজার পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তাকে দশে পাঁচ নম্বর দিয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি পুরো ম্যাচে নিজেকে সেভাবে থিতু করতে পারেননি এবং রাইট ব্যাক পজিশনে তাকে স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ঘাটতি থাকলেও হামজার দল শেফিল্ড ইউনাইটেড শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে ডিফেন্ডার জাফেট ট্যানগ্যাঙ্গা গোল করে শেফিল্ডকে সমতায় ফেরান।
এরপর ৬৭ মিনিটে শেফিল্ড আবারও গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে। তবে সেই ধাক্কা সামলে উঠতে তাদের সময় লেগেছে মাত্র এক মিনিট। ৬৮ মিনিটে প্যাট্রিক ব্যামফোর্ডের গোলে শেফিল্ড দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচে সমতা ফেরায়। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে (৯০+৩ মিনিট) অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রোমেল ডনোভান গোল করলে শেফিল্ড ইউনাইটেড ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচ শেষে হামজা চৌধুরী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ব্র্যামল লেনে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি আরও বলেন, ম্যাচটি বেশ কঠিন ছিল এবং প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়াটা দলের জন্য প্রত্যাশিত ছিল না। তবে সতীর্থরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে খেলায় ফিরে এসেছে এবং জয় ছিনিয়ে নিয়েছে।
তিনি শেফিল্ডের স্টেডিয়াম এবং দর্শকদের বিশেষ বলেও অভিহিত করেন। দীর্ঘ ২১ বছর লেস্টার সিটিতে কাটানোর পর গত ৩১ আগস্ট হামজা চৌধুরী স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দেন। এর আগে গত মৌসুমে তিনি ধারে এই ক্লাবে খেলেছিলেন এবং ১৯টি ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় শেফিল্ডকে প্লে-অফ ফাইনালে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
যদিও সেই ফাইনালে সান্দারল্যান্ডের কাছে হেরে দলটি প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ হাতছাড়া করেছিল। বর্তমান মৌসুমে নতুন করে স্থায়ী চুক্তিতে যোগ দেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম ম্যাচ। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা থাকলেও দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে হামজা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগামী ম্যাচগুলোতে তিনি নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে তার এই নতুন যাত্রা ফুটবল ভক্তদের মাঝে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
