রিয়াল মাদ্রিদ গতকাল রাতে রিয়াল বেতিসের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে। এই হারের মাধ্যমে জোসে মরিনিওর অধীনে টানা তিন জয়ের পর প্রথমবার পয়েন্ট হারাল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি মিস এবং রেফারি কর্তৃক তা পুনরায় নেওয়ার সুযোগ না দেওয়া নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ম্যাচের ৯৫তম মিনিটে এমবাপ্পের নেওয়া স্পটকিক রিয়াল বেতিসের গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস ঠেকিয়ে দেন। এরপর ফিরতি বলটি বেতিসের ডিফেন্ডার মার্ক বার্ত্রা ক্লিয়ার করেন। রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের দাবি, পেনাল্টি নেওয়ার আগেই বার্ত্রা পেনাল্টি বক্সের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন, যার ফলে নিয়ম অনুযায়ী পেনাল্টিটি পুনরায় নেওয়া উচিত ছিল। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার আবেদন নাকচ করে দেন।
এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে যে, এমবাপ্পে শট নেওয়ার মুহূর্তে বার্ত্রার পা মাটিতে ছিল না, যার ফলে তিনি পেনাল্টি বক্সের ভেতরে থাকলেও নিয়ম লঙ্ঘন করেননি বলে গণ্য করা হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি মিস করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৫৫ সালে আলফ্রেড ডি স্টেফানো, ১৯৫৮ সালে একই খেলোয়াড়, ১৯৭৪ সালে পল ব্রেইটনার, ২০০০ সালে রাউল এবং ২০০৬ সালে রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি মিস করেছিলেন।
এমবাপ্পে এই তালিকায় নতুন সংযোজন। ম্যাচের পুরো সময়জুড়ে রিয়াল মাদ্রিদ গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। চলতি মৌসুমে এটি রিয়াল খেলোয়াড়দের ষষ্ঠবার পোস্টে বল লাগার ঘটনা। এছাড়া এমবাপ্পের দুটি প্রচেষ্টা বেতিসের ডিফেন্ডার নাতান ও বার্ত্রা আটকে দেন এবং তার আরেকটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে কার্লোস এস্পি বাইসাইকেল কিকে গোল করলেও ভিএআর পর্যালোচনায় তা অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। রিয়াল বেতিসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ট্রয় পারট। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে থিবো কোর্তোয়া নেলসন দেওসার হেড ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে পারট গোল করতে সক্ষম হন। ম্যাচ শেষে রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও রেফারিং নিয়ে সরাসরি কোনো অভিযোগ না করলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, দল জয়ের যোগ্য ছিল এবং অনেক সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। মরিনিও আরও বলেন, কিছু হারের কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না। ম্যাচ চলাকালীন মরিনিও একটি হলুদ কার্ডও দেখেন। রিয়ালে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর এটি তার প্রথম হলুদ কার্ড। হলুদ কার্ড পাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বেতিসের এক খেলোয়াড়ের আচরণকে দায়ী করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ডাগআউটের সামনে ওই খেলোয়াড় এমন ভান করছিলেন যেন তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন, যার প্রতিবাদ করায় তাকে কার্ড দেখানো হয়। বর্তমানে ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা তাদের পরবর্তী ম্যাচে জয়লাভ করলে রিয়ালের চেয়ে ৩ পয়েন্টে এগিয়ে যাবে।
রিয়াল মাদ্রিদ এখন পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এই হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে।
