রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই ম্যাচে রিয়াল বেটিসের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন আয়ারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ট্রয় প্যারট। অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে। এই পরাজয়ের ফলে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহোর অধীনে টানা তিন জয়ের ধারা থেমে গেল।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ২৪ বছর বয়সী ডাবলিনের ফরোয়ার্ড ট্রয় প্যারট। মাঠে নামার পর থেকেই তিনি আক্রমণাত্মক খেলার চেষ্টা করেন। ম্যাচের এক পর্যায়ে রিয়াল বেটিসের খেলোয়াড় নেলসন দেউসার হেড রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ট্রয় প্যারট গোল করতে সক্ষম হন।
এটি ছিল রিয়াল বেটিসে যোগ দেওয়ার পর ট্রয় প্যারটের তৃতীয় ম্যাচ এবং তার প্রথম গোল। এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। রিয়াল বেটিসের হয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ম্যাচের শেষ দিকে রিয়াল মাদ্রিদ সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ক্রস থেকে কার্লোস এসপি একটি অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে গোল করার চেষ্টা করেন। বল জালে জড়ালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির সহায়তায় দেখা যায় যে খেলোয়াড়টি অফসাইড অবস্থানে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়। ম্যাচের যোগ করা সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ পেনাল্টি পাওয়ার সুযোগ পায়।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ফাউল করার কারণে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তার নেওয়া স্পট-কিকটি রিয়াল বেটিসের গোলরক্ষক আলভারো ভায়েস দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন। এই পেনাল্টি মিসের ফলে রিয়াল মাদ্রিদ সমতায় ফেরার শেষ সুযোগটিও হারায়। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহোর সঙ্গে ট্রয় প্যারটের পুরোনো পরিচয় রয়েছে।
টটেনহ্যামে থাকাকালীন সময়ে মরিনহোই প্যারটকে প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ দিয়েছিলেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে মাত্র দুটি ম্যাচে প্যারটকে মাঠে নামিয়েছিলেন মরিনহো। সেই পুরোনো শিষ্যই এবার মরিনহোর দলের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে ম্যাচটি জিতিয়ে দিলেন। রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এই হারটি বেশ হতাশাজনক, কারণ তারা পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করলেও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, রিয়াল বেটিস তাদের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে। রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে লাগাতে পারেনি। বিশেষ করে এমবাপের পেনাল্টি মিস দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। এই ম্যাচের ফলাফলের পর রিয়াল মাদ্রিদকে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
অন্যদিকে, রিয়াল বেটিস তাদের এই জয়ের মাধ্যমে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে। পুরো ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ এবং রিয়াল বেটিসের খেলোয়াড়রা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রয় প্যারটের গোল এবং আলভারো ভায়েসের দুর্দান্ত সেভই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো তার দ্বিতীয় মেয়াদে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তার প্রথম বড় ধরনের হোঁচট।
