পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলাম মন্তব্য করেছেন যে, কোক স্টুডিও পাকিস্তান এবং কোক স্টুডিও ভারত-এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো সংগীতের জাদু। গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি রেডিও চ্যানেলের সাথে আলাপচারিতায় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। আতিফ আসলাম দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন এবং সেখানে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের সংগীতের সুর বা কম্পোজিশন ভালো হলেও ভারতীয় সংস্করণে পাকিস্তানি সংগীতের সেই সহজাত বৈশিষ্ট্য বা মৌলিকতা অনুপস্থিত। আতিফ আসলামের মতে, ভারতীয় কোক স্টুডিও অতিরিক্ত মাত্রায় বানিজ্যিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানি কোক স্টুডিও মূলত মৌলিক কম্পোজিশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, পাকিস্তানি কোক স্টুডিওতে অল্প সংখ্যক মানুষ কাজ করেন এবং এটি অনেকটা জীবন-মরণ পরিস্থিতির মতো কাজ করে, যেখানে শিল্পী নিজের সৃজনশীলতা বা নিজস্ব শৈলী যোগ করার সুযোগ পান। আতিফ আসলামের সংগীত ক্যারিয়ারের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কোক স্টুডিও পাকিস্তান। এই প্ল্যাটফর্মে তিনি বেশ কিছু কালজয়ী পরিবেশনা উপহার দিয়েছেন।
এর মধ্যে অষ্টম সিজনে সুফি ঘরানার গান 'তাজদার-এ-হারাম' এবং দ্বাদশ সিজনে 'ওহি খুদা হ্যায়' গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এছাড়া চতুর্দশ সিজনে 'সাজন দাস না' এবং 'গো'-এর মতো আধুনিক পপ-ফিউশন গানগুলোতেও তার কণ্ঠের জাদু শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। আতিফ আসলামের আন্তর্জাতিক পরিচিতি শুরু হয় ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে তার একক গান 'আদত'-এর মাধ্যমে।
পরবর্তীতে তিনি বলিউড সিনেমায় প্লে-ব্যাক সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৫ সালে 'জেহের' সিনেমার 'ওহ লামহে' গানটির মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর তিনি 'বাস এক পল' সিনেমার 'তেরে বিন', 'রেস' সিনেমার 'পহেলি নজর মে', এবং 'আজব প্রেম কি গজব কাহানি' সিনেমার 'তু জানে না'-এর মতো জনপ্রিয় রোমান্টিক গানে কণ্ঠ দেন।
পরবর্তী সময়ে 'বদলাপুর' সিনেমার 'জিনা জিনা' এবং 'টাইগার জিন্দা হ্যায়' সিনেমার 'দিল দিয়া গাল্লা' গানগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আতিফ আসলামের সংগীতের এই দীর্ঘ পথচলা এবং তার কণ্ঠের বৈচিত্র্য বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের কাছে সমাদৃত। সম্প্রতি তিনি দীর্ঘ ১৯ বছরের বিরতি ভেঙে 'সুবাহ আয়ে না' শিরোনামে একটি নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন।
গত মাসে অন্য একটি গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, তার এই আট গানের অ্যালবাম কোনো পরিকল্পিত বিদ্রোহ নয়, বরং এটি প্রথাগত ধারার বাইরে বেরিয়ে আসার একটি প্রচেষ্টা। সংগীতের বাণিজ্যিক দিক এবং শৈল্পিক মানের ভারসাম্য নিয়ে আতিফ আসলামের এই মন্তব্য সংগীত মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি মনে করেন, সংগীতের মূল প্রাণ হলো তার মৌলিকতা, যা বানিজ্যিক মোড়কে অনেক সময় হারিয়ে যায়।
তার এই বিশ্লেষণ সংগীতের বাণিজ্যিকীকরণ এবং সৃজনশীলতার মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যকে তুলে ধরে।
