নারী এশিয়া কাপের ম্যাচে দুবাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ৫৫ রানে অলআউট হয়ে গেছে পাকিস্তানের নারী ক্রিকেট দল। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটিই এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের নারী দলের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড। ৮.৪ ওভারের মাথায় ৭ উইকেটে এই ম্যাচটি জিতে নেয় ভারত।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তবে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতের দুই পেসারকে বেশ ভালোভাবে সামলে নেয়। প্রথম ৪ ওভারে পাকিস্তান কোনো উইকেট হারায়নি এবং তাদের সংগ্রহ ছিল ২৩ রান। তবে এরপর স্পিনাররা বোলিংয়ে আসতেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনে ধস নামে।
ভারতের শেফালি বর্মা বোলিংয়ে এসে মুনিবা আলীকে বোল্ড করেন। মুনিবা আলী ১৫ বলে ১৩ রান সংগ্রহ করেন। এরপর থেকে পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয় এবং ইনিংসের ১১ বল বাকি থাকতেই পুরো দল অলআউট হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এর আগে ২০২৪ সালে দুবাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৬ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান।
সেই রেকর্ডটি ভেঙে এখন ৫৫ রানে অলআউট হওয়া তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্কোর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভারতের হয়ে শ্রী চরণী এবং প্রেমা রাওয়াত উভয়েই ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। পাকিস্তানের বোলারদের জন্য খুব সামান্য রানের লক্ষ্য থাকায় তাদের লড়াই করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে তারা ভারতের ৩টি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হয়।
ভারতের ব্যাটিং শুরু হয় আক্রমণাত্মকভাবে। সাদিয়া ইকবালের প্রথম বলেই শেফালি বর্মা ছক্কা মেরে ইনিংসের সূচনা করেন। তবে শেফালি বর্মা খুব বেশি সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি। পরের ওভারে ফাতিমা সানা শেফালি বর্মা এবং প্রতিকা রাওয়ালকে আউট করে দেন। এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে স্মৃতি মান্ধানাকেও আউট করে ফাতিমা সানা।
শেষ পর্যন্ত হারমানপ্রীত কৌর এবং দীপ্তি শর্মা জুটি বেঁধে ভারতকে সহজ জয় এনে দেন। এই জয়ের ফলে ভারত নারী ক্রিকেট দলের সেমিফাইনাল খেলা নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের সবকটিতেই জয়লাভ করে ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াও নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থা বেশ সংকটজনক। তারা গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয়লাভ করেছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচে জয়লাভ করা প্রয়োজন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ছেলেদের ক্রিকেট দলের পাশাপাশি মেয়েদের ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্সও এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড করা এবং এশিয়া কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে এমন বিপর্যয় পাকিস্তানের নারী দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
