ভারত এবং জাপান আগামী ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি জাপানের সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচটি সুজুকি কাপের অংশ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে এবং এটি ভারত ও জাপানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনের একটি বিশেষ উদ্যোগ।
এই ম্যাচটি ভারত ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারত ও জাপানের মধ্যকার এই ক্রিকেট ম্যাচটি 'স্পোর্ট ৭৫' নামক একটি উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ। এই উদ্যোগটি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
এই আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০৩৬ সালে অলিম্পিক এবং প্যারালিম্পিক গেমস আয়োজনের জন্য ভারতের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, এটি ক্রিকেটের জন্য একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ম্যাচটি ভারতীয় দলকে নতুন একটি অঞ্চলে নিয়ে যাবে এবং জাপানসহ পূর্ব এশিয়ার দর্শকদের কাছে ক্রিকেটকে পরিচিত করার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। তিনি আরও বলেন, ভারত ও জাপান দীর্ঘকাল ধরে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনে ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করতে পেরে তারা আনন্দিত।
এই ম্যাচটি সফলভাবে আয়োজন করার জন্য তিনি জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে (জেসিএ) ধন্যবাদ জানান। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ক্রিকেটের প্রসার কেবল প্রচলিত অঞ্চলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে তারা এই খেলার বৈশ্বিক প্রসারে অবদান রাখতে দায়বদ্ধ। ভবিষ্যতে জাপানে ক্রিকেটের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে এবং দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে বিসিসিআই জেসিএর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
এই ম্যাচটি খেলার মাধ্যমে জাপান হবে ২০তম দেশ, যাদের বিপক্ষে ভারত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলবে। বর্তমানে জাপান পুরুষদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ৪১তম অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, জাপান চলতি মাসের শেষের দিকে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের আয়োজক দেশ। তবে এই ম্যাচটি যে ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, তা এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ভেন্যু থেকে ভিন্ন।
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ম্যাচগুলো নিশিহিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাওকি মিয়াজি এই ম্যাচটিকে তাদের অ্যাসোসিয়েশনের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলকে জাপানের ক্রিকেটের প্রাণকেন্দ্রে আমন্ত্রণ জানাতে পারা তাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
তিনি বিসিসিআইকে এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ জানান। নাওকি মিয়াজি আরও বলেন যে, তারা ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি, তিনি জাপানের স্থানীয় মানুষদের ক্রিকেট সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে এই ম্যাচটি উপভোগ করতে এবং তাদের জাতীয় দলকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ম্যাচটি উভয় দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
