লা লিগায় নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে বার্সেলোনা। ভ্যালেন্সিয়ার মাঠ এস্তাদিও মেস্তায়ায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করেছেন লামিনে ইয়ামাল। এছাড়া ফেরমিন লোপেস, রাফিনিয়া এবং পেদ্রি একটি করে গোল করেছেন। এই জয়ের ফলে ৪ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা।
অন্যদিকে, সমান ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ভ্যালেন্সিয়া ৪ ম্যাচে কোনো জয় না পাওয়ায় পয়েন্ট তালিকার ২০ নম্বরে অবস্থান করছে। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন লামিনে ইয়ামাল। ফেরমিন লোপেসের কাছ থেকে পাওয়া পাস থেকে নিখুঁত শটে তিনি গোলটি করেন।
এর দুই মিনিট পর ইয়ামাল আবারও বল জালে জড়ালেও ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। ম্যাচের ২২ মিনিটে বার্সেলোনার হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ফেরমিন লোপেস। ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে তিনি গোলটি করেন। চলতি লা লিগায় এটি লোপেসের চতুর্থ গোল।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১১-১২ মৌসুমে সেস্ক ফাব্রেগাসের পর লোপেসই প্রথম স্প্যানিশ খেলোয়াড়, যিনি বার্সেলোনার হয়ে লিগের প্রথম চার ম্যাচে অন্তত চারটি গোল করেছেন। ২৪ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক স্তোলে দিমিত্রিয়েভস্কি ইয়ামালের একটি বাঁকানো শট প্রতিহত করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। ৩৯ মিনিটে ইয়ামাল আরও একটি সুযোগ পেলেও তার শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
২-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বার্সেলোনা তাদের তৃতীয় গোলটি পায়। ফেরমিন লোপেসের বাড়ানো বল থেকে রাফিনিয়া গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমে রাফিনিয়া একুশ শতকে লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে লা লিগায় নিজ দলের প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি গোলে সরাসরি অবদান রাখার কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে মেসি বার্সার হয়ে প্রথম চার ম্যাচে ছয়টি করে গোল করেছিলেন। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে দানি ওলমোর পাস থেকে পেদ্রি বার্সেলোনার চতুর্থ গোলটি করেন। এর পাঁচ মিনিট পর ৮৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি করে ভ্যালেন্সিয়ার পরাজয় নিশ্চিত করেন।
পুরো ম্যাচে বার্সেলোনা তাদের আক্রমণাত্মক খেলার ধারা বজায় রাখে এবং ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণভাগকে বারবার চাপের মুখে ফেলে। ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বার্সেলোনার সুসংগঠিত আক্রমণের সামনে তারা কোনো গোল করতে ব্যর্থ হয়। এই জয়ের ফলে বার্সেলোনা পয়েন্ট তালিকায় তাদের আধিপত্য বজায় রাখল এবং ভ্যালেন্সিয়া লিগে তাদের কঠিন সময় পার করছে।
বার্সেলোনার এই জয় তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। ম্যাচে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া এবং ব্যক্তিগত দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ইয়ামাল এবং লোপেসের সমন্বিত আক্রমণ ভ্যালেন্সিয়ার রক্ষণভাগকে বারবার পরাস্ত করেছে। বার্সেলোনা তাদের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে লিগ শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে।
অন্যদিকে, ভ্যালেন্সিয়াকে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে রক্ষণভাগ এবং আক্রমণভাগে বড় ধরনের উন্নতির প্রয়োজন হবে।
