বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় যে আর্থিক ক্ষতি তৈরি হয়েছে, তা অন্য কোনো টুর্নামেন্ট দিয়ে পূরণ করা বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়টি উঠে এসেছে। বিপিএল না হওয়ার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সাময়িক আর্থিক সহায়তার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ক্রিকেটারদের সংগঠন।
বিসিবির সঙ্গে আলোচনার পর কোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপিএলের বিকল্প কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করে খেলোয়াড়দের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত আসর যেমন জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)-এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করার পথ খোঁজা হচ্ছে।
ক্রিকেটার সাইফ হাসান জানিয়েছেন, বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিপিএল না হওয়ায় খেলোয়াড়দের যে ক্ষতি হচ্ছে তা অনস্বীকার্য, তবে বোর্ড ঘরোয়া ক্রিকেটের সকল খেলোয়াড়ের উপকারে আসে এমন একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার বিস্তারিত বিসিবি পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছেন, বিপিএল না হওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে অন্য কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ নেই।
তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিপিএল না হলে খেলোয়াড়দের জন্য বোর্ডের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া। এই বিষয়ে বিসিবি একটি দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোর ওপর কাজ করছে। মিঠুন আরও জানান, বিপিএলের বিকল্প হিসেবে নতুন কোনো টুর্নামেন্ট হচ্ছে না। বরং এনসিএল বা বিসিএলের মতো নির্ধারিত সূচির টুর্নামেন্টগুলোর মাধ্যমে খেলোয়াড়রা কীভাবে আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারেন, সেই বিষয়টিই আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যারা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করে মতামত নেওয়া হয়েছে। কোয়াব সভাপতি জানান, সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই বোর্ডে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আলোচনার সময় ক্রিকেটারদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল।
প্রথমটি হলো বিপিএল না হওয়ার কারণে সাময়িক আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করা, আর দ্বিতীয়টি হলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা তৈরি করা যার সুফল ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটার দীর্ঘ সময় ধরে পাবেন। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটাররা সাময়িক সুবিধার পরিবর্তে ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ব্যবস্থার পক্ষেই মত দিয়েছেন। মিঠুন বলেন, তারা কেবল ৫০ থেকে ৭০ জন খেলোয়াড়ের কথা চিন্তা না করে ভবিষ্যতের কথা ভেবেছেন, যেন পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়রা আরও বেশি উপকৃত হতে পারে।
গত পাঁচ বছর ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটের অনিয়মিত সূচি এবং পারিশ্রমিক নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএল অনিয়মিত হয়ে পড়ায় খেলোয়াড়দের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কোয়াব সভাপতির মতে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই টুর্নামেন্টগুলো নিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ক্রিকেটারদের মূল দাবি হলো, বিসিবি এমন একটি কাঠামো তৈরি করুক যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই খেলোয়াড়দের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত হয়।
এরপর বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে খেলোয়াড়রা বাড়তি সুবিধা পাবেন। ক্রিকেটাররা চান তাদের জীবিকা যেন কেবল একটি বা দুটি টুর্নামেন্টের ওপর নির্ভরশীল না থাকে। বিসিবি এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়নের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
