দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চারদিনের ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরি অর্জন করেছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ডানহাতি ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয়। বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটারের এটিই প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। এই অনন্য কীর্তি গড়ার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে যুক্ত করলেন। ম্যাচের শেষদিনের দ্বিতীয় সেশনে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
তাওহিদ হৃদয় ৪৫১ বল মোকাবেলা করে এই ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বোস্টের করা বল মিড অনে ঠেলে দিয়ে দ্রুত দুই রান নেওয়ার মাধ্যমে তিনি তিনশ রানের কোটা পূরণ করেন। এর আগে গতকাল তিনি ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। ডাবল সেঞ্চুরি করার পর থেকেই সবার প্রত্যাশা ছিল তিনি আরও বড় কিছু করবেন।
সেই প্রত্যাশা পূরণ করে আজ তিনি ট্রিপল সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করা তৃতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হলেন তাওহিদ হৃদয়। এর আগে রকিবুল হাসান এবং তামিম ইকবাল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেছিলেন। তাওহিদ হৃদয়ের এই ইনিংসটি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কন্ডিশনে যেখানে সাধারণত বোলাররা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন, সেখানে একজন ব্যাটসম্যানের এমন ধৈর্যশীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শনী ক্রিকেট মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। চারদিনের এই ম্যাচের শুরু থেকেই হৃদয় বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। গতকালের ডাবল সেঞ্চুরির পর আজ তিনি আরও সতর্কতার সাথে ব্যাটিং শুরু করেন।
তার ব্যাটিং কৌশলে ছিল রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক শটের দারুণ সমন্বয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বোলারদের বিপক্ষে তিনি কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেননি। বিশেষ করে স্পিন ও পেস উভয় ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষেই তিনি সাবলীল ছিলেন। তার এই ইনিংসটি দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকার মানসিকতার পরিচয় দেয়। ৪৫১ বলের এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি অসংখ্যবার বোলারদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সফলভাবে তা মোকাবেলা করেছেন।
ট্রিপল সেঞ্চুরি পূর্ণ করার মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। ড্রেসিংরুম থেকে সতীর্থরা তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান। বিদেশের মাটিতে এমন বড় ইনিংস খেলার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাওহিদ হৃদয়ের এই অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য একটি বড় আনন্দের সংবাদ।
বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য তার এই ইনিংস অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করা যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্যই বড় স্বপ্ন। তাওহিদ হৃদয় সেই স্বপ্ন পূরণ করে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন। ম্যাচের বাকি অংশে দল তার এই ইনিংসের ওপর ভিত্তি করে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এই সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। তাওহিদ হৃদয়ের এই ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হবে। তার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে তিনি জাতীয় দলের হয়ে আরও বড় সাফল্য বয়ে আনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ট্রিপল সেঞ্চুরিটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এমন পারফরম্যান্স করা সহজ কাজ নয়, কিন্তু তাওহিদ হৃদয় তা করে দেখিয়েছেন। তার এই অর্জনের পর এখন ক্রিকেট বিশ্বে তার নাম আরও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।
