দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের আন-অফিশিয়াল টেস্ট ম্যাচে দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। পচেফস্ট্রমে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রতিপক্ষের বিশাল সংগ্রহের বিপরীতে ব্যাট করতে নেমে হৃদয় ব্যক্তিগত ২০৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তার এই ইনিংসটি বাংলাদেশ ‘এ’ দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিয়েছে।
ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪৭১ রান। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল তাদের প্রথম ইনিংসে ৫১২ রান সংগ্রহ করেছিল। ফলে বাংলাদেশ ‘এ’ দল বর্তমানে ৪১ রানে পিছিয়ে আছে। ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে জয়ের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটারদের ওপর বড় দায়িত্ব থাকবে।
ম্যাচের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের পাহাড়সম স্কোরের বিপরীতে বাংলাদেশ ‘এ’ দল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। দলীয় ১৩৫ রানের মাথায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল তাদের ৪টি উইকেট হারিয়ে ফেলে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় এবং জাকের আলী অনিক। পঞ্চম উইকেটে এই দুই ব্যাটার ১৫১ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন।
জাকের আলী অনিক তার ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন ১৬৮ বলে ১১টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে। তিনি সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে ৯৪ রানে আউট হন। জাকের আলী অনিকের বিদায়ের পর তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাইফউদ্দীন। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই ব্যাটার ১৮৫ রানের আরও একটি বড় জুটি গড়েন।
সাইফউদ্দীন ১৭১ বলে ১০টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৮৭ রান করে আউট হন। অন্যদিকে, তাওহীদ হৃদয় তার ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৩৩৯ বল মোকাবেলা করে। তার এই ধৈর্যশীল ইনিংসে ২২টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কা রয়েছে। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২০১ রান।
সেই অবস্থা থেকে তৃতীয় দিনে হৃদয় ও সাইফউদ্দীনের ব্যাটিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশ ‘এ’ দল প্রোটিয়াদের স্কোরের কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তাওহীদ হৃদয়ের এই পারফরম্যান্স তার ব্যক্তিগত সামর্থ্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টেস্টে সুযোগ পেলেও তিনি খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে তাকে দলে রাখা হয়নি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর এই আন-অফিশিয়াল টেস্টে তার এই ডাবল সেঞ্চুরি নির্বাচকদের নজরে আসার মতো একটি ঘটনা। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটিং লাইনআপের এই ঘুরে দাঁড়ানো ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চতুর্থ দিনে পিচের আচরণ এবং বোলারদের ভূমিকা ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বোলাররা প্রথম ইনিংসে আধিপত্য বিস্তার করলেও দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা তাদের বেশ ভালোভাবেই সামাল দিয়েছেন। তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্ব এবং তার এই দীর্ঘস্থায়ী ইনিংসটি দলের অন্য সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। ম্যাচের শেষ দিনে বাংলাদেশ ‘এ’ দল কত দ্রুত বাকি রান সংগ্রহ করে লিড নিতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এই ধরনের কন্ডিশনে তাওহীদ হৃদয়ের এই ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল এখন একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছে। চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ৪১ রানে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে।
