বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটার তাওহিদ হৃদয় দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে চারদিনের অনানুষ্ঠানিক টেস্ট ম্যাচে অপরাজিত ৩৫০ রানের একটি বিশাল ইনিংস খেলেছেন। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর তাকে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জোরালো হয়েছে। এর আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে তাওহিদ হৃদয় ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি।
সেই ম্যাচে তিনি যথাক্রমে ৩ ও ৯ রান করে আউট হয়েছিলেন। ওই ব্যর্থতার পর তাকে অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে রাখা হয়নি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে এই ট্রিপল সেঞ্চুরি তার দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে খেলার সক্ষমতা নতুন করে প্রমাণ করেছে। নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, একজন খেলোয়াড়কে মাত্র এক বা দুটি ইনিংস দেখে বিচার করা ঠিক নয়।
তিনি উল্লেখ করেন যে, একজন ব্যাটারের টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে মানিয়ে নিতে এবং মেলে ধরতে বেশ কয়েকটি ইনিংসের প্রয়োজন হয়। হাবিবুল বাশার আরও বলেন, তাওহিদ হৃদয়ের এই ইনিংসটি সমালোচকদের জন্য একটি বড় বার্তা। এখন আর কেউ একজন খেলোয়াড়কে অল্প কয়েকটি ইনিংসের পারফরম্যান্স দেখে দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা সহজে বলতে পারবেন না।
অতীতে তানজিদ তামিমকেও একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট অভিষেকে তানজিদ তামিম যথাক্রমে ৪ ও ২৬ রান করেছিলেন। তবে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করেন। জস হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং নাথান লায়নের মতো বোলারদের বিপক্ষে সেই সেঞ্চুরি তানজিদ তামিমের টেস্ট খেলার ধৈর্য ও দক্ষতার প্রমাণ দেয়।
তাওহিদ হৃদয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা এ দলের বিপক্ষে ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর তাকে টেস্ট দল থেকে বাইরে রাখার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তার এই ইনিংসটি প্রমাণ করে যে, দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থেকে বড় ইনিংস খেলার পর্যাপ্ত সামর্থ্য তার রয়েছে।
হাবিবুল বাশার সুমনের মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, আফগানিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরবর্তী টেস্ট সিরিজের দলে তাওহিদ হৃদয়ের জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে দল ঘোষণা করা হয়নি, তবে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নির্বাচকদের চিন্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। টেস্ট ক্রিকেটে ইতিবাচক ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ বা আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলার যে দর্শন হাবিবুল বাশার লালন করেন, তাওহিদ হৃদয় সেই ধারার একজন ব্যাটার।
তিনি ফ্রি স্ট্রোক মেকার হিসেবে পরিচিত এবং প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম। হাবিবুল বাশার নিজেও তার ক্যারিয়ারে একইভাবে আক্রমণাত্মক মেজাজে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন। তিনি মনে করেন, টেস্ট দলে এমন ব্যাটার থাকা প্রয়োজন যারা বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ করতে পারে। তাওহিদ হৃদয়ের এই ট্রিপল সেঞ্চুরি এখন তাকে টেস্ট দলে ফেরার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পারফরম্যান্সের পর তাকে দলে না নেওয়াটা কঠিন হবে।
