বাংলাদেশ 'এ' দলের ব্যাটসম্যান তাওহিদ হৃদয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে চলমান ম্যাচে তিনি অপরাজিত ৩৫০ রান সংগ্রহ করেছেন। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি তামিম ইকবালের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) পূর্বাঞ্চলের হয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে মিরপুরে তামিম ইকবাল ৩৩৪ রান করেছিলেন, যা এতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল।
তাওহিদ হৃদয় ৩৮১ বল মোকাবিলা করে এই বিশাল ইনিংসটি সাজিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিদেশের মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার পর তিনি এই নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন। ম্যাচের শেষ দিনে বাংলাদেশ 'এ' দল তাদের প্রথম ইনিংস ৮ উইকেটে ৬৭৬ রানে ঘোষণা করে। খেলা শুরুর আগের দিন সাইফউদ্দিন আউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দল ৪ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ দিনের খেলা শুরু করেছিল।
দিনের শুরুতে দ্রুত দুটি উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়লেও তাওহিদ হৃদয় এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান। অষ্টম উইকেট পতনের সময় হৃদয়ের ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ২২৫ রান। এরপর রেজাউর রহমান রাজা তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন। রেজাউর রহমান ১১০ বল খেলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন।
তাওহিদ হৃদয় ও রেজাউর রহমানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশ দল বড় সংগ্রহ পায়। এই বিশাল সংগ্রহের ফলে বাংলাদেশ 'এ' দল প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানের লিড পেয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামবে। তবে ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
কারণ হাতে থাকা সময়ের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অলআউট করার জন্য বোলারদের হাতে পর্যাপ্ত সময় নেই। ম্যাচের বাকি থাকা সময়ে বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্রুত আউট করতে না পারলে জয় পাওয়া কঠিন হবে। তাওহিদ হৃদয়ের এই ইনিংসটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিদেশের মাটিতে প্রতিকূল কন্ডিশনে এমন ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় এখন তাওহিদ হৃদয় সবার উপরে। তার এই কীর্তি দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তামিম ইকবালের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের রেকর্ড ভাঙা তাওহিদ হৃদয়ের ক্যারিয়ারের জন্য একটি বড় অর্জন। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এই সিরিজটি বাংলাদেশ 'এ' দলের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, যেখানে হৃদয় ধারাবাহিকভাবে রান পেয়েছেন।
তার ব্যাটিংয়ের ধরন এবং ধৈর্যশীলতা দলের জন্য বড় ভূমিকা রেখেছে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি যেভাবে ইনিংস পরিচালনা করেছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। বাংলাদেশ 'এ' দলের এই পারফরম্যান্স সামগ্রিকভাবে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। যদিও জয়ের সম্ভাবনা কম, তবুও এই ম্যাচে ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে বাংলাদেশ দল অনেক এগিয়ে রয়েছে।
তাওহিদ হৃদয়ের এই ৩৫০ রানের অপরাজিত ইনিংসটি দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই রেকর্ডটি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দল তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলে বাংলাদেশের বোলারদের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া।
তবে সময়ের সীমাবদ্ধতা থাকায় জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় উইকেট পাওয়া বোলারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। সামগ্রিকভাবে, তাওহিদ হৃদয়ের এই রেকর্ড গড়া ইনিংসটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে যুক্ত হলো।
