আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ চেলসি ছেড়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছেন। নতুন ক্লাবে পা রেখেই তিনি জানিয়েছেন, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একসঙ্গে অনেক শিরোপা জেতার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় ফার্নান্দেজ বলেন, তিনি নতুন ক্লাবে এসে অত্যন্ত আনন্দিত এবং ক্লাবের পরিবেশ ও বিশালতা তাকে মুগ্ধ করেছে।
তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন সতীর্থদের সঙ্গে মিলে তারা অনেক সাফল্য অর্জন করতে পারবেন। ফার্নান্দেজ আরও বলেন, ম্যানচেস্টার সিটি প্রতিটি প্রতিযোগিতায় শিরোপার জন্য লড়াই করে এবং এই ক্লাবের ইতিহাস ও জয়ের মানসিকতা তাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি জানান, ক্লাব কর্তৃপক্ষ যখন তাকে দলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে, তখন তিনি কোনো দ্বিধা ছাড়াই এই প্রস্তাবে রাজি হন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ম্যানচেস্টার সিটি বিশ্ব ফুটবলে যে ইতিহাস তৈরি করেছে, তার অংশ হতে পারাটা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ বলে তিনি মনে করেন। ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ নাটকীয় ছিল। এর আগে চেলসি গত ১৪ আগস্টের মধ্যে ফার্নান্দেজের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়ার একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল।
সেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাব দেয়নি। তবে দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের আগ্রহ জোরালো করে এবং শেষ পর্যন্ত চেলসির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে এই আর্জেন্টাইন তারকাকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়। ম্যানচেস্টার সিটির স্কোয়াডে বর্তমানে বড় ধরনের পরিবর্তন চলছে।
দীর্ঘদিনের কোচ পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর ক্লাবটি নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। ফার্নান্দেজ ছাড়াও এই মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন, আইয়ুব বুয়াদ্দি, অ্যালান এলিয়াস ও ইলিমান এনদিয়ায়ে। অন্যদিকে, ক্লাবটির বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে রদ্রি, জন স্টোনস, বার্নার্দো সিলভা, নিকো গনজালেজ, তিয়ানি রেইনডার্স, সাভিনহো, ওমর মারমুশ ও নাথান অ্যাকেসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ক্লাব ছেড়ে চলে গেছেন।
নতুন খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে ম্যানচেস্টার সিটি এই মৌসুমে ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। তবে খেলোয়াড় বিক্রির মাধ্যমে ক্লাবটি ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি আয় করেছে বলে জানা গেছে। ফার্নান্দেজের জন্য এই দলবদলটি আরও একটি কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। চেলসিতে তার সাবেক কোচ এনজো মারেসকার সঙ্গে আবারও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
চেলসিতে একসঙ্গে কাজ করার সেই অভিজ্ঞতাকে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন প্রকল্পে কাজে লাগাতে চান এই মিডফিল্ডার। ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠে নিজের জায়গা তৈরি করা এবং দলের শিরোপা জয়ের ধারা বজায় রাখাই এখন ফার্নান্দেজের প্রধান লক্ষ্য। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলীয় অর্জনকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সিটির জার্সিতে নতুন এই অধ্যায় শুরু করে তিনি এখন মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
