চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য এখনো ৩০ বছর ধরে উন্মোচিত হয়নি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের ইস্কাটন প্লাজার একটি ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তবে ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বলা হয় যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
এই ঘটনাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী জানান, সেদিনের সকাল সাতটায় তাঁর স্বামী কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। তবে বাসার নিচে দারোয়ান সালমান শাহর বাবাকে ওপরে যেতে দিচ্ছিলেন না। দারোয়ান জানায় যে ওপরে যেতে হলে আগে সামিরার অনুমতি নিতে হবে।
একপর্যায়ে জোর করে ওপরে গিয়ে কলবেল দিলে সামিরা দরজা খুলেন। সামিরা জানান যে সালমান শাহ ঘুমে আছেন এবং তাঁর বাবা তাঁকে ডাকতে বা বেডরুমে যেতে দিতে চাননি। কমর উদ্দিন চৌধুরী সেখানে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক সময় কাটান।
নীলা চৌধুরী আরও জানান, ১১টার দিকে তাঁর বাসায় একটি ফোন আসে। ওই ফোনের মাধ্যমে তাঁকে জানানো হয় যে সালমান শাহর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁকে দ্রুত যেতে হবে। নীলা চৌধুরী দ্রুত ছেলে সালমান শাহর হয়ে থাকেন। সেখানে তিনি দেখেন যে সালমান শাহর শরীর বিছানার ওপর উল্টো হয়ে পড়ে আছে এবং কিছু মেয়ে তাঁর হাত-পায়ে শর্ষের তেল মালিশ করে দিচ্ছে।
নীলা চৌধুরী লক্ষ্য করেন যে তাঁর ছেলের হাত-পায়ের নখগুলো নীল হয়ে গেছে। তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর স্বামীকে জানান যে তাঁর ছেলে মারা যাচ্ছে।
ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহকে দ্রুত হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর আত্মহত্যায় মৃত্যুর কথা বলা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে তাঁরা হত্যা মামলা করতে চাইলেও পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
পুলিশ জানায় যে তদন্তের সময় যদি এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় পরিণত হবে।
মৃত্যুর আগের দিন অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সালমান শাহ এফডিসিতে ‘প্রেমপিয়াসী’ ছবির ডাবিং করতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর সহ-অভিনেত্রী শাবনূর উপস্থিত ছিলেন। এফডিসিতে পৌঁছানোর পর সালমান শাহ তাঁর বাবা এবং স্ত্রী সামিরাকে সেখানে আসার জন্য অনুরোধ করেন। সামিরার উপস্থিতিতে সালমান ও শাবনূরের খুনসুটি দেখে সামিরা রেগে যান।
এর ফলে পরিস্থিতির জটিলতা তৈরি হয় এবং বাদল খন্দকার ও সালমান শাহ একই গাড়িতে ওঠেন। তবে সামিরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেননি।
পরিচালক বাদল খন্দকার জানান, তিনি পরদিন সকালেই সালমানের বাসায় গিয়েছিলেন। তিনি যখন সেখানে যান, তখন বাসার নিচে দারোয়ানরা কথা বলছিলেন যে সালমান রাতেই ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন। চলচ্চিত্র পরিচালক শাহ আলম জানান যে সালমান শাহ তাঁর জীবনের শেষ দিকে অনেক মানসিক চাপে ছিলেন। তিনি জানান যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রযোজকদের সঙ্গে বোঝাপড়ার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।
এছাড়া তিনি কিছুদিনের জন্য চলচ্চিত্র সমিতির কাছে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন।
সালমান শাহর পারিবারিক নাম শহীদ চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। তিনি ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী এবং মা নীলা চৌধুরী। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’ এবং ‘অন্তরে অন্তরে’র মতো অনেক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁর অভিনয় গুণে ভক্তদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
