বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে ঘরোয়া ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ফুটবলারদের জন্য বিশেষ কোটা প্রবর্তন করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য প্রতিটি ক্লাবকে সর্বাধিক তিনজন দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলার নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের ফুটবলাররা এই কোটার আওতায় নিবন্ধিত হতে পারেন। এর আগে গত মৌসুমে এই নিয়মটি একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করা হয়েছিল এবং তখন প্রতিটি ক্লাব সর্বাধিক পাঁচজন দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলারকে বাংলাদেশি হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছিল।
তবে খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির দাবি ও বাফুফে-র সাথে আলোচনা করে এই কোটার সংখ্যা পাঁচজন থেকে কমিয়ে তিনজনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
গত মৌসুমে শীর্ষ দলগুলো যেমন মোহামেডান, আবাহনী এবং বসুন্ধরা কিংস এই সাউথ এশিয়ান কোটার সুযোগ নেয়নি। তবে বর্তমান মৌসুমে ক্লাবগুলোর এই কোটার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন মৌসুমে মোট ১৯ জন দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলার নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে নেপালের ১৪ জন, পাকিস্তানের ৪ জন এবং শ্রীলঙ্কার একজন ফুটবলার নিবন্ধিত হয়েছেন।
গতবারের লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস তিন জন নেপালি ফুটবলার এবং রানার্সআপ আবাহনী এক জন পাকিস্তানি ফুটবলারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে মোহামেডান ক্লাবটি এবারও সাউথ এশিয়ান কোটার সুযোগ নেয়নি।
এই নিয়মটি প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ফুটবলাররা যাতে এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লিগগুলোতে খেলার সুযোগ পান। তবে এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য কোনো লাভ হচ্ছে না বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত মৌসুম এবং বর্তমান মৌসুমে দেখা যাচ্ছে যে কেবল বাংলাদেশের ক্লাবগুলোই অন্য দেশ থেকে ফুটবলার আনছে, কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলাররা অন্য কোনো দেশের ঘরোয়া লিগে খেলার জন্য ডাক পাচ্ছেন না।
এর ফলে বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য এই সুযোগটি কার্যকরভাবে একতরফা হয়ে দাঁড়িয়েছে//
বাংলাদেশ ফুটবল লিগে এবার দল সংখ্যা ১০ থেকে বেড়ে ১৩টি হয়েছে এবং প্রতিটি দলে ৩৫ জন করে খেলোয়াড় নিবন্ধিত হয়েছেন। এর ফলে মোট সাড়ে চারশ ফুটবলার নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়েছে। খেলোয়া দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট খেলোয়াড় সংকটে ক্লাবগুলো নেপাল এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর দিকে নজর দিয়েছে, কারণ এই দেশগুলোতে মানের দিক থেকে নিম্নমানের লিগ এবং কম পারিশ্রমিক পাওয়া যায়।
ফলে নেপাল ও পাকিস্তানের ফুটবলাররা সুযোগ পাওয়া মাত্রই বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলতে চলে আসছেন।
ভারতের পর দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলের সেরা লিগ হয় বাংলাদেশে। এখানে অনেক উচ্চমানের বিদেশি ফুটবলাররা খেলেন, ফলে নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ফুটবলাররা এখানে খেলে নিজেদের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করছেন। এই দেশগুলোর জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ফুটবলারও বাংলাদেশের ঘরোয়া আসরে নাম লিখিয়েছেন। এর ফলে আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হতে হবে, যা কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের জন্য ক্ষুঁতটি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন যে, এই নিয়মটি একটি পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করা হয়েছিল। তিনি বলেন, তবে বাংলাদেশের ফুটবল যদি এই নিয়মে কোনো লাভবান না হয়, তবে আগামী মৌসুম থেকে বিকল্প ব্যবস্থা চিন্তা করতে হবে। তিনি আরও জানান যে, অন্য দেশগুলো যদি তাদের ঘরোয়া ফুটবলে সাউথ এশিয়ান কোটায় ফুটবলার না নিলে, তবে ভবিষ্যতে এই নিয়মটি আর থাকবে না।
এই বিষয়ে সাফের সাথে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
