জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত মাসিক ক্রীড়া ভাতা প্রদান প্রক্রিয়ায় বিলম্বের সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসূচি সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কারণে নির্ধারিত সময়ে খেলোয়াড়রা এই আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও বাজেট সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার কারণে জুলাই ২০২৬ মাস থেকে ভাতা প্রদানের কথা থাকলেও তা সেপ্টেম্বরের আগে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে যে, সংশোধিত কর্মসূচি অনুমোদিত হওয়ার পর খেলোয়াড়রা জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ নিয়মিত ভাতা পেয়ে যাবেন। 'ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা' স্লোগানকে সামনে রেখে সরকার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য এই বিশেষ ভাতা কার্যক্রম চালু করেছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে মাসিক ১ লাখ টাকা করে ভাতা প্রদানের মাধ্যমে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও ২০০ জন নতুন খেলোয়াড়কে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্রীড়া ভাতা খাতে ৬০ কোটি টাকা এবং নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রকল্পের জন্য ১৪০ কোটি টাকা মিলিয়ে মোট ২০০ কোটি টাকা 'নন-এডিপি স্কিম' খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই ৬০ কোটি টাকা এবং পরবর্তী চার বছরের জন্য আরও ২৪০ কোটি টাকা মিলিয়ে মোট ৩০০ কোটি টাকার একটি পাঁচ বছর মেয়াদী কর্মসূচির প্রস্তাব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল। এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পর অর্থ বিভাগ কর্মসূচিটি পাঁচ বছরের পরিবর্তে এক বছরের জন্য প্রস্তুত করার পরামর্শ দেয়।
অর্থ বিভাগের এই পরামর্শ অনুযায়ী জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পাঁচ বছর মেয়াদী কর্মসূচির পরিবর্তে এক বছর মেয়াদী সংশোধিত প্রস্তাব পুনরায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সংশোধিত এক বছরের কর্মসূচির প্রস্তাব এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭' প্রকল্পের ১৪০ কোটি টাকার প্রস্তাব একত্রে মোট ২০০ কোটি টাকার কর্মসূচি গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে এই সংশোধিত প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা করেছে যে, এই ভাতা সরাসরি মন্ত্রণালয়ের বাজেটে বরাদ্দ না রেখে 'নন-এডিপি স্কিম' খাতে রাখা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার কারণে কর্মসূচি গ্রহণ এবং অর্থ বিভাগ কর্তৃক তা অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভাতা বিতরণ করা সম্ভব নয়।
যেহেতু এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ, তাই জুলাই মাস থেকে ভাতা প্রদানের পরিকল্পনা থাকলেও তা সেপ্টেম্বরের আগে কার্যকর করা যাচ্ছে না। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, এটি একটি সাময়িক জটিলতা মাত্র। অর্থ বিভাগ থেকে সংশোধিত কর্মসূচি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হওয়ার পরপরই জুলাই ২০২৬ থেকে প্রাপ্য বকেয়া অর্থসহ খেলোয়াড়দের নিয়মিত ভাতা প্রদান করা হবে।
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার এই কর্মসূচিটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
