ইংল্যান্ড সফররত পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একজন ক্রিকেটার লন্ডনের ক্ল্যারেন্স হাউসে আয়োজিত কিং চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত বুধবার লন্ডনের ক্ল্যারেন্স হাউসে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজার এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে ওই ক্রিকেটার এই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ইংল্যান্ড সফরে থাকা পাকিস্তান দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং দলের ভেতরে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলো। লর্ডস ও হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত টানা দুটি টেস্ট ম্যাচে পাকিস্তান দল পরাজিত হওয়ার পর পিসিবি দলের গঠন ও কোচিং স্টাফে বড় ধরনের রদবদল আনে। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সফরকারী দলের সাতজন সদস্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পিসিবির পক্ষ থেকে বাদ পড়া এই সাতজন সদস্যের মধ্যে কয়েকজনকে কিং চার্লসের সঙ্গে নির্ধারিত ওই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমন্ত্রিতদের মধ্যে আলী উসমান, আমির জামাল, খুররম শাহজাদ এবং মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর ক্ল্যারেন্স হাউসে উপস্থিত হয়ে ব্রিটিশ রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে বাদ পড়া পাঁচজন ক্রিকেটারের মধ্যে একজন সেখানে যেতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।
এই ক্রিকেটারের নাম বা পরিচয় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ক্ল্যারেন্স হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কিং চার্লস পাকিস্তান দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের স্বাগত জানান। তিনি সফরকারী দলের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন এবং উপস্থিত খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক বাবর আজম কিং চার্লসকে পাকিস্তান দলের খেলোয়াড়দের স্বাক্ষর করা একটি ব্যাট উপহার হিসেবে প্রদান করেন। এছাড়া পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি বোর্ডের পক্ষ থেকে রাজাকে একটি বিশেষ উপহার দেন। সাক্ষাৎ শেষে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি পুরো বৈঠকটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি জানান, কিং চার্লস শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই টেস্টে পরাজয়ের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ব্যাপক রদবদল শুরু হয়। লর্ডস ও হেডিংলির হারের পর প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে বরখাস্ত করা হয়। তার জায়গায় সিরিজের বাকি অংশের জন্য নিউজিল্যান্ডের মাইক হেসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এই অস্থিরতা এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষের বিষয়টি এখন ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলের ভেতরে থাকা খেলোয়াড়দের একাংশের মধ্যে পিসিবির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা এই ঘটনার মাধ্যমে আরও একবার সামনে চলে এলো। তবে পিসিবির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
কিং চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের এই অনুষ্ঠানটি মূলত পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্কের অংশ হিসেবে আয়োজিত হয়েছিল। কিন্তু দলের এক ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এই সংকটময় সময়ে দলের শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা নিয়ে এখন নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।
