বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আসন্ন এশিয়ান গেমসের জন্য ১৫ সদস্যের একটি শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে। এই টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডকেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন লিটন কুমার দাস। চোট কাটিয়ে দলে ফেরার পাশাপাশি তিনি অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করবেন। এই দলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো নাজমুল হোসেন শান্তর প্রত্যাবর্তন।
দীর্ঘ ১৫ মাস পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জাতীয় দলে ফিরেছেন তিনি। নাজমুল হোসেন শান্ত সর্বশেষ গত বছরের মে মাসে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। তার এই ফেরা দলের ব্যাটিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। এছাড়া দলে জায়গা ধরে রেখেছেন ইয়াসির চৌধুরী রাব্বি, যিনি জিম্বাবুয়ে সফরে একটি অর্ধশতক হাঁকিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন।
দলের বোলিং আক্রমণেও রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ ও তরুণ পেসারদের সংমিশ্রণ। স্কোয়াডে রয়েছেন শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান এবং হাসান মাহমুদ। তবে ইনজুরির কারণে দলের নিয়মিত পেসার নাহিদ রানা এখনো পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় তাকে এই স্কোয়াডে রাখা সম্ভব হয়নি।
এশিয়ান গেমসের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দলে রয়েছেন লিটন কুমার দাস, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী চৌধুরী, রিশাদ হোসেন, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, সাইফ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান এবং হাসান মাহমুদ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই জাতীয় দলের মূল খেলোয়াড়দের নিয়ে এই স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তরুণদের ওপরও আস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই দল নির্বাচন করা হয়েছে।
নাজমুল হোসেন শান্তর মতো খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তি দলের মিডল অর্ডারে গভীরতা বাড়াবে। অন্যদিকে, লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বে দলটির লক্ষ্য থাকবে এশিয়ান গেমসে ভালো ফলাফল অর্জন করা। বোলিং বিভাগে মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। স্পিন বিভাগে নাসুম আহমেদ ও শেখ মেহেদী হাসান দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এশিয়ান গেমসের এই আসরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তাদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের প্রতিটি সদস্যকে তাদের নিজ নিজ অবস্থানে সেরা পারফরম্যান্স করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং বর্তমান ফর্ম বিবেচনা করেই এই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের প্রত্যাশা অনেক বেশি, আর সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই এই দল মাঠে নামবে। আগামী দিনগুলোতে দলের অনুশীলন এবং কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল নিয়ে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ।
