এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। এই হারের মাধ্যমে চার দলের গ্রুপে চতুর্থ স্থান অর্জন করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজ জার্সিধারী যুব দলটি। বাছাই পর্বের তিন ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি বাংলাদেশ এবং কোনো গোলও করতে পারেনি।
উল্টো প্রতিপক্ষের কাছে মোট আটটি গোল হজম করেছে দলটি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল। খেলার ২৫তম মিনিটে ভারতের খেলোয়াড় ড্যানি লাইশেরাম বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করেন। গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে তিনি দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে ভারত আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং আরও দুটি গোল আদায় করে নেয়।
খেলার ৬১তম মিনিটে বিশাল যাদব গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৭৮তম মিনিটে অনিকেত যাদব আরও একটি গোল করলে ভারতের জয়ের ব্যবধান ৩-০ হয়। এই জয়ের ফলে ভারত চূড়ান্ত পর্বে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলটি নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এই দলটির পেছনে বড় ধরনের বিনিয়োগ ও শ্রম ব্যয় করেছিল। তবে দলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্সের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাহীনতা নিয়ে সমালোচনা ছিল। বাফুফের বাইরের একজনকে দলের ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ফলে দলের ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দলটি প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়। উজবেকিস্তান ও সিরিয়ার বিপক্ষে টানা হারের পর বাফুফে কোচ জেরার্ড জোন্সকে বরখাস্ত করে তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। তবে সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নিতে অনেক দেরি করে ফেলেছিল বাফুফে। বাছাই পর্ব থেকে দলের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর কোচের বিদায় কোনো কাজে আসেনি।
জোন্সের বিদায়ের পর শেষ ম্যাচে দলের ডাগআউটে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। উল্লেখ্য যে, আগের দুই ম্যাচে মিশুকে ডাগআউটে রাখা হয়নি, তিনি গ্যালারিতে ছিলেন। নতুন কোচের অধীনেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ কোনো সুবিধা করতে পারেনি। সামগ্রিকভাবে এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।
তিন ম্যাচে আটটি গোল হজম করার বিপরীতে একটি গোলও করতে না পারা দলের আক্রমণভাগ ও রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বাফুফের বিনিয়োগ সত্ত্বেও মাঠের খেলায় এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবই এই ব্যর্থতার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের যুব ফুটবলের এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। এখন দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যর্থতার কারণগুলো নিয়ে বাফুফেকে নতুন করে ভাবতে হবে। খেলোয়াড়দের মানোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের অভাব এই ফলাফলের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
