ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটার ব্রায়ান লারা কারাবন্দি সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক ইমরান খানের জন্য যথাযথ ও স্বাধীন চিকিৎসাসেবা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। লারা তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই দাবি জানিয়েছেন।
লারা জানান, ক্রিকেট মাঠে ইমরান খানের সঙ্গে তার খুব বেশি দেখা হয়নি, তবে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়কের প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। তিনি বলেন, নিজ দেশের জন্য একসময় আশা, গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে পরিচিত একজন মানুষ কীভাবে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন যেখানে তিনি প্রাপ্য সহমর্মিতা ও মর্যাদার সঙ্গে চিকিৎসা পাচ্ছেন না, তা বুঝতে তার কষ্ট হচ্ছে।
সাবেক অধিনায়কদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে লারা দাবি করেন যে, ইমরান খানকে যথাযথ এবং স্বাধীন চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হোক। তিনি তার সাবেক অধিনায়ক সতীর্থদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে এই আহ্বান জানান। লারা স্পষ্ট করে বলেন যে, তার এই অবস্থানকে রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার মতে, এটি রাজনীতি নয়, বরং খেলার একজন কিংবদন্তির জন্য মৌলিক মানবিকতার বিষয়।
লারা এমন সময় এই মন্তব্য করলেন যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, ইমরান খানকে দুই দিনের মধ্যে শিফা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করতে হবে।
তবে তাকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের দাবি, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, যে ইমরান খানের বোন এবং তার নিজস্ব চিকিৎসকদের উপস্থিতিতেই তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ যোগ্য চিকিৎসকদের একটি দল ইমরান খানের বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। এই পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা করেছেন।
তবে সরকারের এই পদক্ষেপে ইমরান খানের দল সন্তুষ্ট হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে তাকে নির্ধারিত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে দলটি আদালত অবমাননার আবেদন করেছে।
ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দাবি করে আসছেন যে, তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান খান দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহল থেকে একের পর এক সমর্থনের আওয়াজ উঠছে।
