লিভারপুল ফুটবল ক্লাবের স্ট্রাইকার আলেকসান্দার ইসাক ইপসউইচ টাউনের বিপক্ষে ম্যাচে দুটি গোল করে দলের ২-০ ব্যবধানের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন। ম্যাচের ষষ্ঠ এবং নবম মিনিটে এই দুটি গোল করেন তিনি। চলতি মৌসুমে লিগে তিনটি ম্যাচে তিনি তিনটি গোল করেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুইডিশ এই স্ট্রাইকার গত বছর সেপ্টেম্বরে নিউক্যাসল থেকে লিভারপুলে যোগ দিয়েছিলেন। তাকে দলে ভেড়াতে লিভারপুল ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ২০৭৮ কোটি টাকা খরচ করেছিল, যা ব্রিটিশ ফুটবল ইতিহাসের এক রেকর্ড। তবে প্রথম মৌসুমে তার পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল না। গত মৌসুমে তিনি ২২ ম্যাচে ১০৩৩ মিনিট খেলে মাত্র ৪টি গোল করেছিলেন।
এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে ১৪ ম্যাচে ৭০৩ মিনিট খেলে তিনি ৩টি গোল করেন। অর্থাৎ প্রতি ২৩৪ মিনিটে তিনি একটি গোল করেছিলেন।
ইসাকের প্রথম মৌসুমটি বেশ কঠিন ছিল। দেরিতে দলে যোগ দেওয়ার কারণে তিনি সতীর্থদের তুলনায় শারীরিকভাবে পিছিয়ে ছিলেন। এছাড়া ভাঙা পা এবং পেশির চোটের কারণে তিনি পুরো মৌসুমে নিয়মিতভাবে মাঠে নামতে পারেননি। এই শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি দলের অন্য স্ট্রাইকার উগো একিতেকের তুলনায় ম্লান হয়ে পড়েছিলেন।
আর্নে স্লটের অধীনে লিভারপুলের শিরোপা ধরে রাখার ব্যর্থ অভিযানে ইসাকও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন।
ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা জানান, ইসাক দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়। তিনি বলেন, ইসাক এখন পুরোপুরি ফিট এবং ভালো ছন্দে ফিরে এসেছেন, যার ফলে তিনি নিয়মিত গোল করতে পারবেন। তবে কোচের মূল লক্ষ্য হলো ইসাক যেন দলের সব ধরনের পরিস্থিতিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারে।
ইরাওলার অধীনে ইসাক এখন তার পুরনো ছন্দে ফিরেছেন। নিউক্যাসলের হয়ে খেলার সময় তার যে খেলার ধরন ছিল, তা এখন লিভারপুলে দেখা যাচ্ছে। ইপসউইচের বিপক্ষে প্রথম গোলটি তিনি করেন কোডি গাকপোর নিখুঁত পাসে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে। দ্বিতীয় গোলটি করেন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়, অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বক্সে ঢুকে গাকপোর পাসে বাঁ পায়ের শটে।
এই ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিক করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, তবে অফসাইডের কারণে তার একটি গোল বাতিল হয়ে যায়।
ইসাককে তার সেরা রূপে ফিরিয়ে আনতে কোচ ইরাওলার কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনছে। কোচ তাকে ডিফেন্ডারদের পেছন দিয়ে দ্রুতগতিতে বক্সে ঢোকা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশলে ব্যবহার করছেন। নিউক্যাসলে থাকাকালীন এই শৈলী তাকে বিশ্বের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ফুটবলার হিসেবে পরিচিত করেছিল।
নিজের প্রথম মৌসুমের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইসাক বলেন, সময়টি তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘদিনের চোটের ধাক্কা এবং সামগ্রিকভাবে পুরো মৌসুমটি তার জন্য বেশ কঠিন ছিল। তবে তিনি মনে করেন যে কঠিন দিনগুলো এখন পেছনে ফেলে এসেছেন।
নতুন মৌসুমে নিজের ভালো শুরু নিয়ে ইসাক বলেন, প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির পর তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত খেলার শৈলীতে ফিরতে শুরু করেছেন। তার মতে, দলের মূল লক্ষ্য হলো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা এবং প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা, যা তারা সফলভাবে করতে পেরেছেন। তিনি দুটি গোল করলেও মনে করেন যে ম্যাচে গোলের সুযোগ আরও বেশি ছিল।
