আর্সেনালের সঙ্গে সাত বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টেনে সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলালে যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে দলে ভেড়াতে রিয়াদের ক্লাবটি ৬০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৯৫ কোটি টাকার সমান। এই ট্রান্সফার ফি আর্সেনালের ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড় বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া সর্বোচ্চ অর্থের রেকর্ড গড়েছে।
সপ্তাহের শুরুতেই মার্টিনেল্লি তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন এবং বৃহস্পতিবার আল-হিলাল আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে নিজেদের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। মার্টিনেল্লির এই বিদায় কেবল একটি সাধারণ দলবদল নয়, বরং এর পেছনে আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতার সঙ্গে তার সম্পর্কের তিক্ততা বড় ভূমিকা রেখেছে। কোচ আর্তেতা তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাকে আর রাখা হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে কমিউনিটি শিল্ডের ম্যাচ এবং প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমের প্রথম ম্যাচেও মার্টিনেল্লি দলে জায়গা পাননি। মার্টিনেল্লির প্রতি কোচিং স্টাফের এই আচরণের বিষয়টি আর্সেনালের অন্দরমহলেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। দলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একজন জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় জানিয়েছেন যে, মার্টিনেল্লির সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে তা দলের ভেতরে অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে।
তার বাদ পড়া নিয়ে দলের কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়ও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। আর্সেনালের সঙ্গে মার্টিনেল্লির চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র ১২ মাস বাকি ছিল। এই সময়ে তিনি তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারায়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পেলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল-হিলালের প্রস্তাবে সম্মতি জানান।
আর্সেনালকে বিদায় জানানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা দিয়েছেন মার্টিনেল্লি। সেখানে তিনি ক্লাবের স্টাফ, সতীর্থ, সমর্থক এবং নিজের পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে তার এই বিদায়ী বার্তায় কোচ মিকেল আর্তেতার নাম কোথাও উল্লেখ ছিল না, যা তাদের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। আর্সেনালের জার্সিতে মার্টিনেল্লি প্রিমিয়ার লিগে মোট ১৯১টি ম্যাচ খেলেছেন।
দীর্ঘ এই পথচলা শেষে তিনি এখন আল-হিলালে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। সৌদি আরবের এই ক্লাবে তিনি কোচ সিমোনে ইনজাগির অধীনে খেলবেন। সেখানে সতীর্থ হিসেবে তিনি পাবেন নতুন যোগ দেওয়া অলি ওয়াটকিন্স এবং ক্রিসেনসিও সামারভিলকে। আর্সেনাল কর্তৃপক্ষ এবং মার্টিনেল্লির পক্ষ থেকে এই দলবদলের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও, ফুটবল বিশ্বে এই ট্রান্সফারটি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে পরিচিত মার্টিনেল্লির এই প্রস্থান আর্সেনালের আক্রমণভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, আল-হিলালের জার্সিতে তিনি নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কতটা সময় নেন। মার্টিনেল্লির এই দলবদল ইউরোপীয় ফুটবলের বর্তমান বাজারের একটি বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে, যেখানে সৌদি আরবের ক্লাবগুলো বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছে।
আর্সেনালের সমর্থকরাও তাদের প্রিয় খেলোয়াড়ের এই বিদায়কে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হওয়া এই খেলোয়াড়টি এখন নতুন অধ্যায় শুরু করার অপেক্ষায় আছেন।
