চীনের মকিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপ হকির উদ্বোধনী ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ নারী হকি দল। শনিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখেন। পুরো ম্যাচ জুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তারা একের পর এক আক্রমণ পরিচালনা করেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক খেলার কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দলের পক্ষে প্রথম গোলটি করেন কনা আক্তার। তার এই গোলটি দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করে। এরপর ইমা এবং আইরিন আক্তার রিয়া প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ইমা এবং আইরিন আক্তার রিয়া দুজনেই ম্যাচে ব্যক্তিগতভাবে দুটি করে গোল করেন।
তাদের এই নৈপুণ্য দলের ব্যবধান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ম্যাচের চতুর্থ কোয়ার্টারে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আক্রমণের ধার আরও বৃদ্ধি করেন। এ সময় দলের অধিনায়ক সারিকা রিমন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রতিপক্ষের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে পরপর দুটি গোল করেন। অধিনায়কের এই জোড়া গোল দলের বড় জয় নিশ্চিত করে।
সামগ্রিকভাবে কনা আক্তারের একটি গোল, ইমা ও আইরিন আক্তার রিয়ার চারটি গোল এবং অধিনায়ক সারিকা রিমনের দুটি গোলের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ৭-০ ব্যবধানের এই জয় তুলে নেয়। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে জয় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ম্যাচই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই বিশাল ব্যবধানের জয় গোল পার্থক্যের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে। ম্যাচের প্রতিটি কোয়ার্টারে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সমন্বয় এবং কৌশলগত দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা প্রতিপক্ষের কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে দেয়নি। রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে আক্রমণভাগ পর্যন্ত প্রতিটি খেলোয়াড় তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছেন।
এই জয়ের পর এখন বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য পরবর্তী ম্যাচের দিকে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে। রোববার অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে পাওয়া এই বড় জয় দলের খেলোয়াড়দের পরবর্তী ম্যাচের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও বাংলাদেশ একই ধরনের আক্রমণাত্মক খেলা প্রদর্শন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এশিয়া কাপ হকির মতো একটি বড় টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচেই এমন সাফল্য বাংলাদেশের নারী হকির অগ্রযাত্রায় একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। খেলোয়াড়দের এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতেও বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা ছিল প্রশংসনীয়।
তারা মাঠের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রেখেছিল। চাইনিজ তাইপের খেলোয়াড়রা বাংলাদেশের এই আক্রমণের সামনে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে গোল করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা দেখা গেছে। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
এখন পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি এবং কৌশল নির্ধারণের ওপরই পুরো দলের মনোযোগ নিবদ্ধ রয়েছে।
