ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান ক্রিকেট দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মাহসিন নাকভি। তবে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পিসিবি সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
একই সঙ্গে টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় সাদা বলের দলের কোচিং স্টাফ মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকেকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নাটকীয় পরিবর্তনের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক ক্রিকেটার, কোচ এবং সমর্থকদের একটি বড় অংশ বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন।
তবে মাহসিন নাকভি জানিয়েছেন, তিনি এসব সমালোচনায় মোটেও বিচলিত নন। তিনি বলেন, আমি কখনো সমালোচনাকে ভয় পাইনি এবং ভবিষ্যতেও পাব না। পিসিবির চেয়ারম্যান দাবি করেন, যারা বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য পাকিস্তান ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন নয়, বরং ব্যক্তিগত কারণ। তার মতে, যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাদের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে।
নাকভি আরও বলেন, যদি ওয়াসিম আকরামের মতো কোনো কিংবদন্তি ক্রিকেটার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতেন, তবে তিনি তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতেন। কিন্তু সাধারণ সমালোচকদের বক্তব্যকে তিনি একই গুরুত্ব দিতে রাজি নন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের ভরাডুবির পরই পিসিবি এই বড় সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করে।
সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে পরাজয়ের পর পাকিস্তান ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। এরপরই স্কোয়াডে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়। দেশে ফেরত পাঠানো সাত ক্রিকেটারের মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক ও সালমান আলী আগার মতো পরিচিত নাম রয়েছে। সিরিজের মাঝপথে এমন ব্যাপক পরিবর্তন পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা। এছাড়া সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফ এবং সাবেক প্রধান কোচ মিকি আর্থারও বোর্ডের এই নাটকীয় পরিবর্তনের সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের মতে, একটি চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথে এত বড় পরিবর্তন দলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।
বিশেষ করে খেলোয়াড় ও কোচদের একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে নাকভি দাবি করেছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে—এমন অভিযোগের সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি বরং নিজের দায়িত্ব নেওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতির দাবি করেছেন। সমালোচকদের বর্তমান র্যাংকিংয়ের দিকে তাকানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বলছেন আমি আসার পর ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে গেছে, তারা দেখুক এর আগে র্যাংকিংয়ে আমরা কোথায় ছিলাম।
বর্তমান আইসিসি র্যাংকিং অনুযায়ী পাকিস্তান ওয়ানডেতে পঞ্চম এবং টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে তাদের অবস্থান নেমে গেছে অষ্টমে। নাকভির বক্তব্যে মূলত সাদা বলের ক্রিকেটের উন্নতিকে তার সময়ের অন্যতম সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা এবং ইংল্যান্ড সফরে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার কারণে তার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর। প্রথম দুই ম্যাচে হেরে ইতোমধ্যেই সিরিজ খুইয়েছে পাকিস্তান। ফলে শেষ ম্যাচটি এখন তাদের জন্য হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই। বড় ধরনের পরিবর্তনের পর নতুন কম্বিনেশনে মাঠে নামবে পাকিস্তান। তৃতীয় টেস্টের দলে রয়েছেন বাবর আজম, আবদুল্লাহ ফজল, আবদুল্লাহ শফিক, আরাফাত মিনহাস, আজান আওয়াইস, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মুহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, মুহাম্মদ গাজি ঘোরি, রাজাউল্লাহ, সাদ বেগ, সাইম আইয়ুব, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ ও উবায়েদ শাহ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টে এই দল নিয়ে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নাকভির নেতৃত্বে পিসিবির নেওয়া কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।
