ক্রিকেটার মোহাম্মদ রুবেল সাম্প্রতিক সময়ে তার অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ২৯ বছর বয়সে এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে ‘মোস্ট প্রমিজিং ক্রিকেটার’ পুরস্কার জয়ের পর থেকে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরতে শুরু করে। বর্তমানে ৩০ বছর বয়সেও তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বয়সের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই একজন খেলোয়াড়ের যোগ্যতার আসল মাপকাঠি।
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে তিনি সাতটি ম্যাচ খেলে ২৩টি উইকেট শিকার করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। এই টুর্নামেন্টে নেপাল, হোবার্ট হ্যারিকেন্স, ভিক্টোরিয়া, অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স এবং নর্দান টেরিটরির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিনি ধারাবাহিকভাবে উইকেট নিয়েছেন। তার এই সাফল্যকে তিনি কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার ফসল হিসেবে দেখছেন।
মোহাম্মদ রুবেল জানান, দেশের বাইরে এটিই ছিল তার প্রথম সফর। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার আগে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং সেখানে অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তার বোলিংয়ে অফস্পিনের পাশাপাশি ক্যারম বল, ব্যাক স্পিন, লেগ স্পিন ও দুসরার মতো বৈচিত্র্য রয়েছে। এই দক্ষতাগুলো তিনি সহজাতভাবেই আয়ত্ত করেছেন এবং বিসিবির কোচ সোহেল ইসলামের পরামর্শ অনুযায়ী নিজের স্কিল আরও শাণিত করেছেন।
ক্যারিয়ারের এই দ্রুত উত্থানকে তিনি রূপকথার মতো মনে না করে বরং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবেই দেখছেন। ২০১৭-১৮ মৌসুমের পর জাতীয় লিগের স্কোয়াডে জায়গা না পেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। পরবর্তীতে বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নির্বাচকদের নজরে আসেন। তিনি জানান, প্রিমিয়ার লিগে ভালো খেলার পর থেকেই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরতে শুরু করে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা প্রতিটি ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন এবং রুবেলও এর ব্যতিক্রম নন। তিনি জানান, তার মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি ম্যাচেই নিজের সেরাটা দেওয়া এবং দলের প্রয়োজনে কার্যকর ভূমিকা রাখা। জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নির্বাচকদের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি নিজের কাজের ওপরই মনোযোগ ধরে রাখতে চান।
অস্ট্রেলিয়া সফরের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ ও মানসিক সমর্থন তাকে অনেক সাহায্য করেছে। প্রথমবার দেশের বাইরে খেলতে গিয়ে কন্ডিশন বা পরিবেশ নিয়ে কোনো বড় সমস্যায় পড়তে হয়নি তাকে। খাবারের ক্ষেত্রে শুরুতে কিছুটা অসুবিধা হলেও পরবর্তীতে তা কাটিয়ে ওঠেন। নিজের বোলিংয়ের শক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, টাইট লাইন ও লেংথে বল করে ব্যাটারদের চাপে রাখাই তার প্রধান কৌশল।
যখনই ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন, তখনই তিনি কৌশলে পরিবর্তন আনেন। বয়সের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফিটনেস ঠিক থাকলে বয়স কোনো বাধা নয়। তার কাছে শারীরিক সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লাইমলাইটে আসার পর মানুষের ভালোবাসা ও পরিচিতি পাওয়াকে তিনি উপভোগ করছেন এবং একে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন না।
ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় থাকা এই রহস্য স্পিনার এখন তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার এই সাফল্য দেশীয় ক্রিকেটে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে, সঠিক সুযোগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো বয়সেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।
