বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি পেসার সৈয়দ রাসেলকে হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের বা এইচপির বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এইচপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মূলত এইচপির বর্তমান বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের বর্তমানে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকায় এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
সেই শূন্যস্থান পূরণের লক্ষ্যেই সৈয়দ রাসেলকে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া সৈয়দ রাসেল খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর থেকেই কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং জাতীয় ক্রিকেট লিগের বিভিন্ন দলের কোচিং প্যানেলে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
গত কয়েক বছর ধরে তিনি জাতীয় ক্রিকেট লিগে খুলনা বিভাগের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগের আসরে খুলনার কোচিং প্যানেলে তাকে রাখা হয়নি। এই পরিবর্তনের পরপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাকে এইচপির কোচ হিসেবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। এইচপির ওই সূত্রটি জানিয়েছে যে, বর্তমানে প্রতিটি দলেরই টানা খেলা চলছে এবং কোচিং প্যানেলে কিছু সদস্যের ঘাটতি রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সৈয়দ রাসেলকে বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যৌক্তিক বলে মনে করছে বোর্ড। তবে এই নিয়োগটি আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এইচপির নিয়মিত বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে ফিরে এলে সৈয়দ রাসেলকে তার বর্তমান পদ থেকে সরে যেতে হতে পারে। তবে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সুযোগও রাখা হয়েছে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৈয়দ রাসেল যদি কোচ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন এবং ভালো ফলাফল দেখাতে সক্ষম হন, তবে তাকে দীর্ঘমেয়াদে এইচপির কোচিং প্যানেলে রেখে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মূলত সাবেক ক্রিকেটারদের কোচিং পেশায় দক্ষ করে তুলতে চায় এবং তাদের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ দিতে চায়।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সৈয়দ রাসেলকে এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সৈয়দ রাসেল জাতীয় দলের জার্সিতে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ৬৬টি ম্যাচ খেলেছেন। দীর্ঘদিনের খেলার অভিজ্ঞতা এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা তাকে এই নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, সৈয়দ রাসেল জানিয়েছেন যে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব পাননি।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে তাকে কেবল জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি বর্তমানে কোনো কাজে ব্যস্ত আছেন কি না। তিনি বোর্ডকে জানিয়েছেন যে তিনি বর্তমানে ফ্রি আছেন এবং যেকোনো দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। এইচপির বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে এটি তার কোচিং ক্যারিয়ারে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ মনে করে, এইচপি হলো জাতীয় দলের পাইপলাইন। এখানে নতুন কোচদের কাজ করার সুযোগ দিলে তারা যেমন শিখতে পারবে, তেমনি তাদের কাজের মূল্যায়ন করার সুযোগও বোর্ডের থাকবে। সৈয়দ রাসেলের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কোচিংয়ে নিয়ে আসার মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের মানোন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
