বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএল প্রতি বছর নিয়মিতভাবে আয়োজন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বিপিএল বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই এই টুর্নামেন্ট কেন নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের টুর্নামেন্টগুলো ধারাবাহিকভাবে এবং নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সেই বিষয়টির ওপর সরকার অবশ্যই নজরদারি রাখবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। বিপিএল আয়োজনের বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই টুর্নামেন্টটি না হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানান।
বিপিএলের গত দুই আসরে বিভিন্ন ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিসিবি এবার তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ডের লক্ষ্য হলো, টুর্নামেন্টটিকে সংস্কার করে আগামী বছর থেকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ক্রিকেটার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও একমত পোষণ করেছে। বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্তের আগে বিসিবি ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেছে।
এই আলোচনার পর বোর্ড ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে ম্যাচ ফি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ানডে ফরম্যাটে ম্যাচ ফি ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিসিবি মনে করছে, এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো ঘরোয়া ক্রিকেটের মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। বিপিএল বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় আসর হিসেবে পরিচিত। এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে দেশের তরুণ ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পান এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাই এই টুর্নামেন্টের নিয়মিত আয়োজন দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক স্পষ্ট করেছেন যে, বিপিএলের মতো জনপ্রিয় টুর্নামেন্টগুলো যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সরকার সজাগ দৃষ্টি রাখবে। টুর্নামেন্ট আয়োজনে কোনো ধরনের ঘাটতি বা সমস্যা থাকলে তা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিসিবির পক্ষ থেকে আগামী বছরের জন্য যে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে বিপিএল আরও শক্তিশালী কাঠামোতে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বৃদ্ধির বিষয়টিও ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতি খেলোয়াড়দের আগ্রহ ধরে রাখতে ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে, বিপিএলকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ক্রিকেট বোর্ড যৌথভাবে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছে। ভবিষ্যতে বিপিএল যেন প্রতি বছর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিমন্ত্রী পুনরায় উল্লেখ করেন।
