বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) বাংলাদেশ জাতীয় যুব ফুটবল দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্সকে বরখাস্ত করেছে। উজবেকিস্তানে চলমান এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব চলাকালীন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বাফুফের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ এই কোচের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তি বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাছাইপর্বের প্রথম দুই ম্যাচে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং মাঠের বাইরের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে ফেডারেশন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিয়ার বিপক্ষে দল ৩-০ গোলের ব্যবধানে হেরে যায়। এই দুই ম্যাচে বাংলাদেশ কোনো গোল করতে সক্ষম হয়নি। টানা দুই পরাজয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় শূন্য অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ দলের জন্য পরবর্তী পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার পথ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেরার্ড জোন্সের দায়িত্ব পালনকাল নিয়ে বাফুফের ভেতরে আগে থেকেই অস্বস্তি ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া ঢাকার একটি টিম হোটেলে সরকারি কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে জোন্সের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় কোচের বিরুদ্ধে হোটেলে পুলিশ ডাকার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছিল।
এতসব বিতর্কিত ঘটনার পরও বাফুফে তাকেই বাছাইপর্বের জন্য দলের প্রধান কোচ হিসেবে উজবেকিস্তানে পাঠিয়েছিল। তবে বাছাইপর্বের মাঝপথে এসে ফেডারেশন তার সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিল। জোন্সের বরখাস্ত হওয়ার পর বাফুফে ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের জন্য আতিকুর রহমান মিশুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব প্রদান করেছে।
এর আগে সরকারি কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও জোন্সের নির্দেশে প্রথম দুই ম্যাচে মিশুকে ডাগআউটে থাকতে দেওয়া হয়নি। দায়িত্ব পাওয়ার পর আতিকুর রহমান মিশু জানিয়েছেন, বাফুফের সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে তিনি শেষ ম্যাচে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা পেয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিই এখন দলের জন্য শেষ সুযোগ।
এই ম্যাচে জয়লাভ করতে পারলে গ্রুপে তৃতীয় স্থান অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দলের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। জোন্সের বিদায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ যুব ফুটবল দলের কোচিং প্যানেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসলো। বাছাইপর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে নতুন এই নেতৃত্বের অধীনে দল কেমন পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে, তা এখন দেখার বিষয়।
বাফুফে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে দলের শৃঙ্খলা এবং পারফরম্যান্সের উন্নতির লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জোন্সের সঙ্গে চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ফুটবল দলের এই সংকটময় মুহূর্তে নতুন কোচের অধীনে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলের খেলোয়াড়দের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং মাঠের খেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এখন ভারপ্রাপ্ত কোচের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বাফুফে এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দলের সামগ্রিক অবস্থার উন্নতির প্রত্যাশা করছে।
