ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে টানা দুই ম্যাচে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট দলে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ উল হক। দলের সাতজন ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত তাকে না জানিয়েই নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মিসবাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র বোর্ডের কাছে জমা দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে নোটিস পিরিয়ডে ছিলেন, তবে তার আগেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। বোর্ডের ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাকে অন্তর্ভুক্ত না করায় তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স আশানুরূপ না হওয়ায় বোর্ড কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দল থেকে বাদ দেওয়া সাত ক্রিকেটারের তালিকায় রয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলি আগা, ইমাম-উল হক, আলি উসমান, আমির জামাল, মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর এবং খুর্রম শাহজাদ। বাদ পড়া এই তালিকায় অভিজ্ঞ ও তরুণ উভয় ধরনের ক্রিকেটারই রয়েছেন।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টেস্ট দল থেকে সাতজন ক্রিকেটারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পরিবর্তে নতুন খেলোয়াড়দের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুনদের মধ্যে পাঁচজন প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন। দলে নতুন আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে সাইম আয়ুব এর আগে আটটি এবং আবদুল্লা ফজল দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন।
এছাড়া স্পিনার ও অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস পাকিস্তানের হয়ে তিনটি ওয়ানডে ও চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মহম্মদ ইমরান ও রাজাউল্লা। তাদের ইংল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের এই রদবদল থেকে স্পষ্ট যে, তারা তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রেখে দলের ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা করছে।
তবে ইংল্যান্ডের প্রতিকূল কন্ডিশনে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা ছাড়া এই তরুণরা কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তৃতীয় টেস্ট ম্যাচে দলের দায়িত্ব পালন করবেন পাকিস্তানের সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলে নফ। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এই আকস্মিক ও ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসেবে মিসবাহর পদত্যাগ এবং কোচিং স্টাফের রদবদল পাকিস্তান ক্রিকেটে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের বাকি অংশ এবং ভবিষ্যতের সিরিজগুলোতে এই নতুন দল ও কোচিং প্যানেল কীভাবে পারফর্ম করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের পারফরম্যান্সে আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছে। তবে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে তরুণদের ওপর নির্ভর করার এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলে দেবে।
