নারী এশিয়া কাপের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫৫ রানে অলআউট করে ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে ভারত। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তবে ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর ফলে পাকিস্তান মাত্র ৫৫ রানে তাদের সবকটি উইকেট হারায়।
এটি নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের ইতিহাসের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। ভারতের বোলারদের মধ্যে শ্রী চরণী এবং প্রিমা রাওয়াত দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শন করেন। তারা দুজনেই পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসিয়ে দিতে সমান ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। ভারতীয় বোলারদের ঘূর্ণি এবং সঠিক লাইন-লেংথের সামনে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটারই বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি।
৫৫ রানের এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরুতেই কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। পাকিস্তানের বোলার ফাতিমা সানা ভারতের ব্যাটিংয়ে কিছুটা উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করেন। তিনি ২৯ রানের মধ্যে ভারতের প্রথম তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন। তবে এই প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিতে ভারত খুব বেশি সময় নেয়নি।
এরপর হারমানপ্রিত কৌর এবং দিপ্তি শর্মা দলের হাল ধরেন। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যাট করে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত হারমানপ্রিত কৌর একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করেন। ভারত মাত্র ৮.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫৭ রান সংগ্রহ করে ফেলে।
এই জয়ের ফলে ভারত তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে এ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটার শেফালি ভার্মা একটি ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তিনি নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে ৩ হাজার রানের মাইলফলক অর্জনের রেকর্ড গড়েছেন। পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে ভারতের বোলারদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।
বিশেষ করে শ্রী চরণী এবং প্রিমা রাওয়াতের বোলিং পাকিস্তানের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতের ব্যাটাররা ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শুরুতে কিছুটা বিপদে পড়লেও হারমানপ্রিত কৌর এবং দিপ্তি শর্মার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের কারণে জয় পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। এই জয় ভারতের জন্য এশিয়া কাপের পরবর্তী ধাপের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য এই ম্যাচটি ছিল হতাশাজনক, কারণ তারা তাদের ব্যাটিং সক্ষমতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের এই সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভারতের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে এবং টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
এশিয়া কাপের এই আসরে ভারত এখন পর্যন্ত অপরাজিত থেকে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান এই হারের ফলে পয়েন্ট টেবিলে তাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ পেল। পুরো ম্যাচজুড়ে ভারতের বোলারদের আধিপত্য এবং ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে এই জয়টি অর্জিত হয়েছে।
