দীর্ঘ বিরতির পর নতুন গান প্রকাশের মাধ্যমে সংগীতে ফিরেছে ব্যান্ড কাকতাল। গত ২ সেপ্টেম্বর ব্যান্ডটি ‘অমিল’ শিরোনামের একটি নতুন গান ইউটিউবে প্রকাশ করেছে। গত বছরের ১৭ মে ব্যান্ডটি তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল। এক বছরেরও বেশি সময় পর আচমকা এই গান প্রকাশের মাধ্যমে তারা পুনরায় সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিল।
গানটি প্রকাশের পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। গত শুক্রবার ‘চেনা বৃত্তের আবর্তে’ শিরোনামের একটি কনসার্টে ব্যান্ডটি সরাসরি সংগীত পরিবেশন করেছে। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা, ভোকালিস্ট ও গীতিকার আসিফ ইকবাল অন্তু জানিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
এক সময় ব্যান্ডের সদস্যদের মনে হচ্ছিল, গান করার যে আনন্দ থেকে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন, তা হারিয়ে যাচ্ছে। গান তাদের কাছে আর স্বস্তির জায়গা ছিল না। দায়িত্ব এবং ব্যক্তিগত উন্নতির চাপে তারা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিলেন। নিজেদের সংগীতকে নতুন করে আবিষ্কার করা এবং মিউজিককে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তারা বিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বিরতির এই সময়ে তারা সরাসরি কোনো গান প্রকাশ না করলেও নিজেদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও রিহার্সাল চালিয়ে গেছেন। এখন থেকে নিয়মিত গান ও আড্ডায় ব্যান্ডটিকে পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন অ্যালবামের নাম রাখা হয়েছে ‘জং ধরা গান’। এই অ্যালবামের বেশ কয়েকটি গান ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘অমিল’ ছাড়াও আরেকটি গান রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাকি গানগুলো পর্যায়ক্রমে রেকর্ড করা হবে।
অ্যালবামের নামকরণের বিষয়ে আসিফ ইকবাল অন্তু জানান, ব্যান্ডের সংগীত নিয়ে তাদের নতুন উপলব্ধির প্রতিফলন এই নাম। তারা তাদের গানকে খুব বেশি জমকালো বা কৃত্রিমভাবে পরিশীলিত করতে চান না। তাদের মতে, গানকে অতিরিক্ত পরিশীলিত করতে গেলে ব্যান্ডের নিজস্বতা বা মৌলিকত্ব হারিয়ে যেতে পারে। তাদের সংগীতের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এক ধরনের রাফনেস বা অমসৃণতা, যা বজায় রাখা তাদের কাছে জরুরি।
নিখুঁত হওয়ার চাপের চেয়ে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত থাকাকেই তারা নতুন অ্যালবামের গানে প্রাধান্য দিতে চান। বিরতির পর কাকতালের লাইনআপেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। পুরোনো সদস্যদের মধ্যে আসিফ ইকবাল অন্তু ও নাজেম আনোয়ারের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন হাসিন আরিয়ান (ড্রামস), আশফাক আলম (বেজ গিটার) ও সামিত মঞ্জুর (পিয়ানো)।
লাইনআপ পরিবর্তনের বিষয়ে অন্তু জানিয়েছেন, এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা মনোমালিন্য নেই। সদস্যদের ব্যক্তিগত ব্যস্ততা, পেশাগত কাজ এবং নিয়মিত অনুশীলনে সময় দিতে না পারার কারণেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া ব্যান্ডের শ্রোতা বৃদ্ধির তুলনায় নিজেদের সংগীতের মান ও গ্রোথ নিয়ে তারা চিন্তিত ছিলেন। শ্রোতাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী আরও ভালো কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্য থেকেই তারা নতুন আঙ্গিকে কাজ শুরু করেছেন।
তবে ব্যান্ডের মূল দর্শন বা সংগীতের ধারা অপরিবর্তিত থাকছে। অন্য কোনো ব্যান্ডের অনুকরণ না করে নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখেই তারা গান চালিয়ে যেতে চান। কাকতাল তাদের নতুন এই যাত্রায় শ্রোতাদের ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছে।
