জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট অভিষেকের পর প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে না পেরে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তাওহীদ হৃদয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে ব্যর্থ হওয়ার পর দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে নিজের দক্ষতা ও ধৈর্য বাড়ানোর লক্ষ্যেই তিনি এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রমে অনুষ্ঠিত চার দিনের আন-অফিশিয়াল টেস্ট ম্যাচে তিনি অপরাজিত ৩৫০ রানের এক বিশাল ইনিংস খেলেছেন। ৪৮১ বলের এই ইনিংসে তিনি ২৭টি চার ও ১০টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। এই ইনিংসটি ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এর আগে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার দেশের বাইরে ভিনদেশি কোনো দলের বিপক্ষে ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
ফলে হৃদয়ই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই অনন্য রেকর্ডের মালিক হয়েছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে অনুষ্ঠিত টেস্ট অভিষেকে তাওহীদ হৃদয় দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৯ ও ৩ রান করেছিলেন। সেই ব্যর্থতার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে তার জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি ড্রেসিংরুমে কোচ সালাউদ্দীনের সাথে আলোচনা করেন।
হৃদয় জানান, তিনি কোচকে বলেছিলেন যে যদি জাতীয় দলের কোনো খেলা না থাকে, তবে তাকে যেন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ‘এ’ দলের সাথে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় লঙ্গার ভার্সন বা চার দিনের ম্যাচ না খেলায় নিজের ভুলত্রুটিগুলো শুধরে নেওয়া এবং দীর্ঘ ইনিংস খেলার ধৈর্য ও সংযম বৃদ্ধির তাগিদ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
নিজের এই ইচ্ছার কথা তিনি প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের কাছেও তুলে ধরেন। নির্বাচক প্যানেল তার এই আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। তবে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে দেশে ফেরার পর ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রথম চার দিনের ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারেননি।
দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়েই তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। এর আগে তানজিদ তামিম ও তাওহীদ হৃদয়কে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল মূলত প্রতিপক্ষ বোলারদের চাপে পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা বিবেচনায়। তানজিদ তামিম পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকে ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শতরান করে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, তাওহীদ হৃদয় টেস্টে নিজের জায়গা পোক্ত করতে এবং দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে মানিয়ে নিতেই ‘এ’ দলের হয়ে খেলার পথ বেছে নিয়েছেন। তার এই পারফরম্যান্সের পর তাকে আসন্ন আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট দলে দেখার সম্ভাবনা নিয়ে ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে হৃদয় জানিয়েছেন, তিনি কেবল নিজের খেলার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এই সফরে অংশ নিয়েছেন।
ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে অতীতে সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরি থাকলেও দীর্ঘ বিরতির পর বড় ইনিংস খেলার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে চেয়েছিলেন। তার এই প্রচেষ্টা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ট্রিপল সেঞ্চুরি বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘ পরিসরের ফরম্যাটে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
