দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে অপরাজিত ৩৫০ রানের একটি বিশাল ইনিংস খেলে নতুন ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। পচেফস্ট্রমে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের করা ৫১২ রানের জবাবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল তাদের প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৬৭৬ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে।
এই ইনিংসের সুবাদে সফরকারী বাংলাদেশ ‘এ’ দল প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানের লিড অর্জন করেছে। তাওহীদ হৃদয়ের এই ব্যক্তিগত সংগ্রহ বিদেশের মাটিতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড। এর আগে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডটি ছিল হৃদয়ের নিজেরই দখলে। তবে এবার তিনি সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি হৃদয়ের ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব ছিল কেবল রকিবুল হাসান এবং বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের।
তাওহীদ হৃদয় কেবল বিদেশের মাটিতেই নয়, বরং দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল তামিম ইকবালের দখলে। ২০২০ সালে মিরপুরে ইস্ট জোন ও সেন্ট্রাল জোনের মধ্যকার ম্যাচে তামিম ইকবাল অপরাজিত ৩৩৪ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন।
এছাড়া ২০০৭ সালে ফতুল্লায় বরিশাল ও সিলেট বিভাগের মধ্যকার ম্যাচে রকিবুল হাসান অপরাজিত ৩১৩ রান করেছিলেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ইতিহাসে এই তিনটিই ট্রিপল সেঞ্চুরির ঘটনা। তবে রানের সংখ্যার বিচারে তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০ রানের ইনিংসটি এখন সবার উপরে অবস্থান করছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এই ম্যাচটি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
স্বাগতিক দলের ৫১২ রানের বিশাল সংগ্রহের বিপরীতে বাংলাদেশ ‘এ’ দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতে হৃদয়ের এই দীর্ঘস্থায়ী ইনিংসটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। পচেফস্ট্রমের পিচে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মোকাবিলা করে হৃদয় যেভাবে ধৈর্য ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইনিংস ঘোষণার আগ পর্যন্ত হৃদয় মাঠ ছাড়েননি এবং অপরাজিত থেকে দলের রানকে ৬৭৬ পর্যন্ত নিয়ে যান। তার এই ইনিংসটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় এখন তাওহীদ হৃদয় সবার শীর্ষে।
তার এই সাফল্য তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দল তাদের ব্যাটিং সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে। প্রথম ইনিংসে ১৬৪ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দল এখন সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ম্যাচের পরবর্তী অংশগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে দল মাঠে নামবে।
তাওহীদ হৃদয়ের এই অনন্য কীর্তি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
