জুনিয়র এশিয়ান কাপ হকিতে ছেলেদের বিভাগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৪-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। চীনের মকিতে চলমান এই টুর্নামেন্টে এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় পরাজয়। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চীনের কাছেও হেরেছিল লাল-সবুজ জার্সিধারী দলটি। রোববার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে মালয়েশিয়ার যুবাদের বিপক্ষে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও বাংলাদেশ এক পর্যায়ে ২-২ গোলের সমতায় ফিরেছিল। তবে ম্যাচের শেষ দিকে রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মালয়েশিয়া আরও দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের হেড কোচ গিলস বোনেট এই হারের জন্য মূলত সুযোগ নষ্ট করা এবং রক্ষণভাগের ভুলকে দায়ী করেছেন।
তিনি জানান, স্কোরলাইন থেকেই হারের কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হলে গোল করা অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু বাংলাদেশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ধরনের টুর্নামেন্টে সুযোগ নষ্ট করলে তার খেসারত দিতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। কোচ আরও বলেন, ২-২ গোলে সমতায় ফেরার পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিবাচক দিক থাকলেও রক্ষণভাগে আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
ম্যাচের শেষ দিকে যে দুটি গোল হজম করেছে দল, তা আরও সতর্কতার সাথে ঠেকানো সম্ভব ছিল। চীনের বিপক্ষে আগের ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সুযোগ তৈরি করা ইতিবাচক হলেও গোল করতে না পারলে প্রতিপক্ষ ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধ করার লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের প্রচুর শক্তি ব্যয় হয়, যা পরবর্তী সময়ে ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে এই টানা দুই পরাজয়েও বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে না বাংলাদেশ। কোচ গিলস বোনেট জানিয়েছেন, দলের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা এবং সেই লক্ষ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি মনে করেন, টুর্নামেন্টের ক্লাসিফিকেশন ম্যাচগুলোই হবে দলের জন্য আসল পরীক্ষা। সেখানে সম্ভবত কোরিয়া, জাপান কিংবা ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।
ক্লাসিফিকেশন ম্যাচের আগে আরও তিনটি ম্যাচ হাতে রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে দল। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে নিজেদের রক্ষণভাগ আরও সুসংহত করা এবং গোল করার দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন কোচ। খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা বজায় রেখে প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হারের হতাশা কাটিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভালো ফলাফল করাই এখন দলের মূল লক্ষ্য। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ দল তাদের ভুলগুলো সংশোধন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মূল লক্ষ্য অর্জনে এই ম্যাচগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দলের প্রতিটি সদস্য এখন পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
কোচ গিলস বোনেট বিশ্বাস করেন, সঠিক পরিকল্পনা এবং মাঠে কার্যকর পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ দল তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
