বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কোচ আশিক মজুমদার বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে পুরো দলকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। গত মে মাসে জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর গত তিন মাসে তিনি ফিল্ডিংয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য কাজ করছেন।
আশিক মজুমদার বলেন, তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে খেলোয়াড়দের দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করছেন। তার মতে, দুর্বলতা সবকিছুরই থাকে, তবে তিনি শক্তিশালী দিকগুলোর ওপর বেশি মনোযোগ দিয়ে দুর্বলতাগুলো ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।
ফিল্ডিংয়ের তিনটি প্রধান দিক—ক্যাচিং, গ্রাউন্ড ফিল্ডিং এবং থ্রোয়িংয়ের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ক্যাচিংয়ের ওপর। তিনি জানান, জিম্বাবুয়ে সফরের সময় থেকেই স্লিপ ক্যাচিং, হাই ক্যাচিং এবং ক্লোজ ক্যাচিংয়ের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে হাই ক্যাচিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে কারণ সেখানে বাতাসের প্রভাব থাকে।
ডাইরেক্ট থ্রোয়িংয়ের ক্ষেত্রেও তিনি জানান যে, টেকনিক্যাল এবং মেন্টাল উভয় দিকটিই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আসার পর ডাইরেক্ট থ্রো নিয়ে অনেক কাজ করা হয়েছে এবং এর ফলে ম্যাচে রানআউট করার সুযোগগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, ডাইরেক্ট থ্রোয়িংয়ের জন্য বিশেষ ড্রিল তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মিস করলে রান হবে এবং হিট করলে রানআউট হবে।
এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার ফলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে।
আশিক মজুমদার জানান, যে কোনো ফিল্ডার যখন ক্যাচ মিস করে বা নেগেটিভ সিচুয়েশন তৈরি হয়, তখন পাশে থাকা অন্য ফিল্ডাররা এবং তিনি নিজেই তাকে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেন। এই মানসিক সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।n
প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, ডাটা এন্ট্রি এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে ক্যাচ ড্রপ এবং মিসের হিসাব রাখা হয়। এছাড়া জিপিএস ডাটা ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের দৌড়ের গতি, কত রান সেভ করা হয়েছে এবং কতগুলো রানআউট করা হয়েছে তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই তথ্যগুলো পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতে সাহায্য করে।
ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে তিনি সেরা ফিল্ডারকে মেডেল দেওয়ার প্রথা চালু করেছেন। তিনি জানান, এই আইডিয়াটি তিনি ছোটবেলায় ওয়াহিদ স্যারের কাছে অঙ্কুর ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন করার সময় পেয়েছিলেন। ম্যানেজার নাফিস ইকবাল তাকে এই প্রথাটি চালু করতে উৎসাহ দিয়েছেন। এর ফলে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং তারা এখন মেডেল পাওয়ার জন্য বেশি আগ্রহী থাকেন।
আশিক মজুমদার বলেন, তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে ওল্ড ডিওএইচএস ক্রিকেট একাডেমিতে সহকারী কোচ হিসেবে। তাকে সেখানে রেজাউল করিম জুয়েল, মিজানুর রহমান বাবুল এবং খালেদ মাহমুদ সুজন সাহায্য করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রাইম ব্যাংক এবং 'এ' দল ও এইচপিআইতে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোচিং করার সময় বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের তুলনায় সময় কম পাওয়া যায়। তবে তিনি শেখানোর পদ্ধতি একই রাখেন, তবে এলিট লেভেলে এসে খেলোয়াড়দের শুধু পারফর্ম করতে হবে এবং নিজের দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে।n
আশিক মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ দল বর্তমানে ফিল্ডিংয়ে বিশ্বের সেরা তিন দলের একটি। তবে শীর্ষে যেতে হলে ধারাবাহিকতা এবং আরও বেশি হাই-ইনটেনসিটি ড্রিল করতে হবে। তিনি জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচে বেশি বেশি হাই-ইনটেনসিটির ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।n
সবশেষে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ঐতিহাসিক জয়লাভের পর ড্রেসিংরুমে সবাই খুব খুশি ছিল। অধিনায়ক শান্তনুর কথা অনুযায়ী তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারাবেই এবং অধিনায়ক এবং খেলোয়াড়রা প্রচুর পরিশ্রম করে এই জয়লাভ করেছে।
