লর্ডস টেস্টে চোটের অজুহাতে ব্যাটিংয়ে না নামার ঘটনায় পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল-হকের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক আকিব জাভেদ জানিয়েছেন, ইমামের এই আচরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাঁ পায়ের পেশিতে চোটের কথা জানিয়ে ইমাম ব্যাটিং থেকে বিরত থাকেন।
তবে তাঁর এই চোট নিয়ে শুরু থেকেই নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে। আকিব জাভেদ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ইমামের ঘটনায় গভীরভাবে হতাশ। অতীতে অনেক খেলোয়াড় চোট নিয়েও মাঠে লড়াই করেছেন, কিন্তু ইমামের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়নি। পেশিতে টান লাগার কারণে দুই ইনিংসেই ব্যাট করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকাটা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইমামের চোটের সত্যতা যাচাই করতে এবং তিনি চোটের ভান করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন আকিব। লর্ডস টেস্টের চতুর্থ দিনে ইমামকে দলের অন্যদের সঙ্গে অনুশীলন করতে দেখা যায়, যা নিয়ে ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট ব্রডসহ অনেকেই সমালোচনা করেন। ব্রড তাঁর এই অনুশীলনকে লোকদেখানো বলে মন্তব্য করেন।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমামের এই আচরণের সমালোচনা করেন। লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের বড় হারের পর ইমামসহ সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আকিব জাভেদ জানান, পাকিস্তান দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে কোনোভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি দল নির্বাচন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আকিবের মতে, দলে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার এবং উবায়েদ শাহর মতো দ্রুতগতির বোলার থাকা সত্ত্বেও তাঁদের খেলানো হয়নি। তিনি জানান, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী ও খুররম শাহজাদের বোলিংয়ের গতি প্রায় একই ধরনের, যা দলের বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়া উইকেটকিপার হিসেবে মোহাম্মদ রিজওয়ানের বদলে গাজি ঘোরিকে খেলানোর প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন। আকিব জাভেদ আরও বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন ছিল কারণ বিশ্বজুড়ে দলের এমন পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ সফরে নিজেদের খেলা উঁচুতে নিতে হবে এবং লড়াই করতে হবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক ও হাই পারফরম্যান্স বিভাগে দায়িত্ব পালন করা আকিব জাভেদ জানান, দল নির্বাচনের সময় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না, কিন্তু মাঠে তারা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি জানান, কোচ ও অধিনায়কের দায়িত্ব হলো ম্যাচ অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা লর্ডস টেস্টে দেখা যায়নি।
তবে তিনি নতুন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং তাঁকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আকিব জাভেদ বলেন, পাকিস্তান ক্রিকেটে এখনো অনেক প্রতিভা রয়েছে এবং মাইক হেসন ও বাবর আজমের সমন্বয়ে দল ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা করেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দলের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
