ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে অপহরণের একটি ব্যর্থ পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই পরিকল্পনার মূল হোতা হিসেবে ক্লেমেন্ত এল নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে ফ্রান্সের ভিলপাঁত কারাগারে বন্দী রয়েছেন। সশস্ত্র ডাকাতি ও নারী পাচারের অভিযোগে আগে থেকেই কারাগারে থাকা এই তরুণ কারাগারের ভেতর থেকে স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে একটি অপরাধী চক্র পরিচালনা করছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ক্লেমেন্ত এল কারাগারের প্রকোষ্ঠে বসে এমবাপ্পেসহ মোট ২৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অপহরণের ছক কষেছিলেন। এই তালিকায় ফুটবলার ছাড়াও জনপ্রিয় র্যাপ সংগীতশিল্পী, অলংকার ব্যবসায়ী, তুর্কি মাংস ব্যবসায়ী এবং একজন চীনা কোটিপতি ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। গত বছর এপ্রিলে ফ্রান্সের নয়ি-সুর-সেইন এলাকায় একটি ঘড়ির দোকানে ডাকাতির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এই অপরাধী চক্রের সন্ধান পায় কর্তৃপক্ষ।
সেই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ক্লেমেন্ত এলকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁর কারাকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে দুটি মুঠোফোন জব্দ করেন কারারক্ষীরা। এই মুঠোফোনগুলোতে থাকা খুদে বার্তা ও তথ্য বিশ্লেষণ করে অপহরণের পরিকল্পনার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, জব্দকৃত মুঠোফোনে থাকা তালিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে ছিল।
অপরাধী চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ব্যক্তিদের ঠিকানা ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছিল। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ক্লেমেন্ত এল ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের দ্বৈত নাগরিক এবং তিনি ‘লেস্টার জেড’ ছদ্মনামে এই অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ক্লেমেন্ত এল নিজেকে এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অস্বীকার করেছেন। তবে বিচার বিভাগীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাধারণ সেলে স্থানান্তরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এই তরুণ অতীতে ভোকেশনাল রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করেননি। বর্তমানে তিনি পুনরায় পড়াশোনায় ফিরে শেফ বা প্রধান বাবুর্চি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলছেন এবং লা লিগার চলতি মৌসুমে তিনি দারুণ ছন্দে রয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করেন এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট অর্জন করেন।
এমবাপ্পের মতো একজন বিশ্বখ্যাত ফুটবলারকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই তালিকার অন্যান্য ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। অপরাধী চক্রটি কীভাবে কারাগারের ভেতর থেকে মুঠোফোন ব্যবহার করে বাইরের অপরাধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত এবং তাদের অর্থের উৎস কী, তা উদঘাটনের জন্য নিবিড় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে কারাগারে রেখেই আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বন্দী অবস্থায় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দকৃত তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।
