ফ্রান্সের কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর কিলিয়ান এমবাপেকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ওই কিশোর কারাগারের ভেতরে বসেই স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে একটি অপহরণ ও ডাকাত চক্র পরিচালনা করছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা ও ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপেকে অপহরণের উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন ওই কিশোর।
ফরাসি পুলিশের সময়োচিত হস্তক্ষেপে এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অভিযুক্ত ওই কিশোরের নাম ক্লেমঁ এল, যিনি অনলাইনে লেস্টার জেড নামে পরিচিত ছিলেন। গত ২১ আগস্ট নঁতেরেতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি এবং অপহরণের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ক্লেমঁ এল কারাগারের ভেতরে থেকেও স্ন্যাপচ্যাটের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তার সহযোগীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দিতেন। গত এপ্রিল মাসে একটি ঘড়ির দোকানে ডাকাতির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ ওই কিশোরের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করে।
সেই ফোনগুলো তল্লাশি করে ২৬ জন সম্ভাব্য টার্গেটের একটি তালিকা উদ্ধার করা হয়। এই তালিকায় কিলিয়ান এমবাপের নাম ছাড়াও আরও কয়েকজন ফুটবলার, সঙ্গীত শিল্পী এবং ব্যবসায়ীর নাম পাওয়া গেছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে তুরস্ক ও চীনের দুইজন ব্যবসায়ীর নামও রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই ২৬ জন প্রভাবশালী ও বিত্তবান ব্যক্তিই ছিল ওই চক্রের মূল লক্ষ্য।
ক্লেমঁ এল দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, অভিযুক্ত কিশোরটি মূলত একটি সুসংগঠিত চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে কীভাবে স্মার্টফোন ব্যবহার করে বাইরের সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
ফরাসি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই ঘটনার পর থেকে ওই ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অপহরণের ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনাটি ফ্রান্সের ক্রীড়াঙ্গন ও প্রভাবশালী মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
তবে পুলিশের তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটার আগেই চক্রটির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এই অপহরণ পরিকল্পনার পেছনে আর কারা জড়িত এবং এর সাথে অন্য কোনো বড় কোনো অপরাধী গোষ্ঠী যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে তাকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি ফরাসি পুলিশের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
